পিনাক-৬ ডুবি: তদন্ত কমিটির তৃতীয় দফা সময় বৃদ্ধি

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১২:২৫

মাওয়ার পিনাক-৬ ডুবির তদন্ত কমিটির মেয়াদ তৃতীয় দফায় আরও পাঁচ কার্য দিবস বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাত সদস্য বিশিষ্ট সরকারের এই তদন্ত কমিটির প্রধান যুগ্ম সচিব নুর-উর-রহমান রিপোর্ট জমার শেষ দিন রবিবার আরেক দফা সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এ সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করে কমিটির অন্যতম সদস্য সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম রাতে জানান, শুক্রবার মুন্সীগঞ্জ জেলগেটে দেড়ঘণ্টা ধরে পিনাক-৬ মালিক আবু বক্কর কালু ও তার পুত্র ওমর ফারুক লিমনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এই স্বাক্ষ্য থেকে নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেড়িয়ে আসে। তা যাচাই বাছাই ও দলিলপত্র সংগ্রহের জন্য সময় বৃদ্ধি ছিল জরুরি। তাই তৃতীয় দফা সময় বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে লঞ্চ মালিকের পক্ষের এক প্রতিনিধি তদন্ত কমিটির কাছে শনিবার বেশকিছু প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ৩২ জনের স্বাক্ষ্য তদন্ত রিপোর্টে সম্পৃক্ত হচ্ছে।
ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিনেন্স ১৯৭৬  এর ৪৫ (৩) ধারায় গঠিত সরকারের একমাত্র এই তদন্ত কমিটি লঞ্চ দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করছে। যেহেতু আইন মোতাবেক সরকার তদন্ত কমিটিটি করেছে, তাই মামলার বাইরেও এই তদন্তে যাদের দায়িত্বে অবহেলা এবং দোষী সাবস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে কমিটি সাবলিমেন্ট কেস করতে পারবে। তাই তদন্ত কমিটির রিপোর্টটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই দৃষ্টান্তমূলক, কার্যকরী ও পূর্ণাঙ্গ একটি রিপোর্ট পেশ করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে কমিটির সদস্যরা জানান।  
এদিকে দুর্ঘটনার দিন সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর তাদের সার্ভেয়ার ড. এস এম নাজমূল হকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। সরকার যেহেতু উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে তাই বৈঠক করে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের তদন্ত কমিটি বাতিল করে। পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনায় একমাত্র সরকারের এই তদন্ত কমিটি এককভাবে কাজ করছে।
ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, শুধু স্বাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যেই এই তদন্ত সীমাবদ্ধ নেই। নথীপত্র, রেজিস্ট্রেশন, সার্ভে সনদ, আবহাওয়া রিপোর্ট, নদীর ঢেউ, লঞ্চের নকশা সংশ্লিষ্ট সবই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ থেকে অনেক ত্রুটিই বেড়িয়ে আসছে। কারা কারা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে তা সুষ্ঠুভাবে সনাক্ত করা হয়েছে। কমিটির সদস্য বুয়েটের শিক্ষক প্রকৌশলী গৌতম কুমার সাহা নকশায় ত্রুটি সনাক্ত করেছেন।
এই সাত সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রধান যুগ্ম সচিব নুর-উর-রহমান ছাড়া অন্য দস্যরা হলেন- বুয়েটের শিক্ষক প্রকৌশলী গৌতম কুমার সাহা, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ’র ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমেদ, বিআইডব্লিউটিসির প্রতিনিধি আব্দুল রহিম তালুকদার ও মুন্সীগঞ্জে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার এবং কমিটির সদস্য সচিব সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও সার্ভেয়ার ক্যাপটেন জসিম উদ্দিন।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট মাওয়ায় পিনাক-৬ ডুবে যায়। এ দুর্ঘটনায় ৪৯ জন যাত্রীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। সরকারি হিসাবে এখনও নিখোঁজ রয়েছে ৬১ যাত্রী। পর দিন ৫ আগস্ট রাতে “অধিক মুনাফার আশায় ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে বেপোরোয়া লঞ্চ চালিয়ে অবহেলাজনিত নরহত্যার” অপরাধে ছয় জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এছাড়া দুর্ঘটনার দিন মেরিন কোর্টে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর প্রথম মামলা করে। পলাতক অপর চার আসামি হলেন- লঞ্চের পুরনো মালিক (কাগজ-পত্রে এখনও যিনি মালিক) মনিরুজ্জামান খোকন, সারেং (মাস্টার) গোলাম নবী, সুখানী (গ্রিজার) ছবদর হোসেন মোল্লা ও কাওড়কান্দি ঘাটের ইজারাদার আব্দুল হাই শিকদার।
এদিকে, দুর্ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও স্বজনহারা পরিবারগুলোর কান্না থামেনি। মাওয়ায় এখনও শোকহত পরিবারের সদস্যদের আহাজারি চোখে পড়ে।