খিলগাঁওয়ে ছিনতাই: ৪ লাখ টাকাসহ আটক ১

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৯:০২
 
রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ব্যবসায়িকে গুলি করে হত্যার পর ৩৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কাজী সিরাজুল ইসলাম (৪০) নামে এক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার কাছ থেকে ছিনতাইকৃত টাকার ৪ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে। ছিনতাইয়ের সময় চার ছিনতাইকারী তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করেছিল।
সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম জানান, ছিনতাইয়ের ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের পাশেই একটি প্রাইভেটকার ছিল। সেই প্রাইভেটকারের সূত্রধরে কাজী সিরাজকে গ্রেফতার করা হয়। তার মোবাইল ৩ টি অত্যাধুনিক ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্রের স্টিল ছবি ও ১টি ভিডিও চিত্র পাওয়া যায়। এসব অস্ত্র ও গুলি তার কাছে রক্ষিত ছিল বলে জানায়। ঘটনার অন্যতম হোতা ছিনতাইয়ের আগে অস্ত্র ও গুলি নিয়ে যায় বলে কাজী সিরাজের দাবি। এমন ছবির সূত্রধরেই কাজী সিরাজের বাসায় অভিযান চলে। অভিযানে কাজী সিরাজের কাজ থেকে ছিনতাইকৃত ৪ লাখ টাকা উদ্ধার হয়।
যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, আহত পিতা ইসরাইল হোসেন ও নিহত পূত্র শরীফ হোসেন সায়মুন মানি একচেঞ্জ ব্যবসায়ি। ঢাকার মতিঝিল আদমজী কোর্টে রাজধানী মানি একচেঞ্জ নামে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকে। এ বিষয়টি গ্রেফতারকৃত কাজী সিরাজের জানা। প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে পিতাপূত্র মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেন। অনেক দিন ধরেই কাজী সিরাজ বিষয়টি নজরে রাখছিল।
তিনি আরো জানান, এক সপ্তাহ আগে কাজী সিরাজের বাসায়ই পিতাপূত্রের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা হয়। সে মোতাবেক ঘটনার দিন কাজী সিরাজের বাসায় চূড়ান্ত পরিকল্পনা হয়। কাজী সিরাজ তার বাসার বেডরুমে তিনটি অস্ত্র রেখে মোবাইলে তার ছবি তুলে। এরপর অস্ত্রগুলো ছিনতাইকারীদের কাছে তুলে দেয়। ছিনতাইকারীরা পিতাপুত্রের বাসার সামনে ওঁত্ পেতে থাকে। ঘটনার দিন ৩৮ লাখ টাকা নিয়ে পিতাপুত্র ঢাকা মেট্রো-গ-২৩-৮৫১৫ নম্বরের ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারযোগে বাসায় ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসায় সামনে পৌছলে ছিনতাইকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি করে টাকা ছিনিয়ে নেয়। গুলিতে পিতা আহত হন। আর পুত্র সায়মন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার আরও জানান, ছিনতাইকৃত টাকাগুলো নিয়ে ছিনতাইকারীরা কাজী সিরাজের বাসায় যায়। সেখানেই ভাগ বাটোয়ারা হয়। কাজী সিরাজ ৫ লাখ টাকা পায়। এরমধ্যে একলাখ একহাজার টাকা কাজী সিরাজ খরচ করে। কাজী সিরাজের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, ৪ ছিনতাইকারী ঘটনাটি ঘটায়। ছিনতাইয়ে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহূত হয়। এরমধ্যে একটি রিভলভার। বাকি দুইটি পিস্তল। অস্ত্রের উত্স সর্ম্পকেও তথ্য মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কাজী সিরাজ অস্ত্রের ছবি তুলে রেখে অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো ছিনতাইকারীদের হাতে তুলে দেয়। ছিনতাইকারীদের মধ্যে শাহীন সবচেয়ে বেশি গুলি ছুঁড়ে। ছিনতাইকারীরা উঠতি বয়সের সন্ত্রাসী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ছিনতাইয়ে অংশ নেয়া ৪ জনকেই শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। এরমধ্যে শাহীন নামে এক ছিনতাইকারী সবচেয়ে বেশী গুলি চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে খিলগাঁও তিলপাপাড়া শান্ত্তিপুর স্কুলের সামনে ছিনতাইকারীদের গুলিতে আহত হন মানি একচেঞ্জ ব্যবসায়ী ইসরাইল হোসেন (৬০) ও আর তার পুত্র শরীফ হোসেন সায়মন (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।