অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও এনা প্রোপার্টিজের মালিক এনামুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দীর্ঘ আড়াইঘন্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এনামুল হক বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আমাকে ডাকা হয়েছে। আমি আমার সম্পদের সঠিক হিসাব দিয়েছি। এর বাইরে আমার কোনো সম্পদ নেই। তিনি দাবি করে বলেন, আমার সব সম্পদই বৈধ, অবৈধ কোনো সম্পদ আমার নেই। এ সব বিষয়ে আমি দুদকের কাছে লিখিত দিয়েছি।
এমপি এনামুল হক আরও বলেন, নির্বাচনের হলফনামায় এবং দুদকের কাছে দেওয়া সব তথ্যই এক ও সঠিক। আমার ঘোষিত সম্পদের মধ্যে কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। আমি একজন প্রথিতযশা ব্যবসায়ী। আমি ব্যবসায় পেশা থেকে রাজনীতিতে এসেছি। ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমার যে সম্পদ অর্জন হয়েছে তা ব্যবসা থেকে অর্জিত। আমার সম্পদ বাড়তেই পারে। তবে গত পাঁচ বছরে অস্বাভাবিকভাবে আমার কোনো সম্পদ বাড়েনি।
দুদক সূত্র জানায়, এনা প্রোপার্টিজের মালিক এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
হলফনামা সূত্র থেকে দুদক জানতে পেরেছে ২০০৮ সালে শুধু বেতন-ভাতা থেকে তার বছরে আয় ছিল ২০ লাখ টাকা। পাঁচ বছর পরে এখন কৃষি, বাড়ি ও দোকান ভাড়া, ব্যবসা ও পেশা থেকে বছরে তার আয় হয় ৫০ লাখ টাকা। তার নিজের, স্ত্রীর ও নির্ভরশীলদের মোট ১৬ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার সাধারণ শেয়ার, তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ পাঁচ বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট কোটি ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা। নগদ হিসেবে নিজের ১০ লাখ টাকা ও স্ত্রীর হাতে পাঁচ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। নিজ নামে ব্যাংকে আছে আট লাখ ৫৮ হাজার ৯১ টাকা ও স্ত্রীর নামে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা।
উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারি কমিশন সভায় সরকারের সাত মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এনামুল হক ছাড়া অপর ছয়জন হলেন- সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার, কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি আবদুর রহমান বদি, ঢাকা-১২ আসনের এমপি আসলামুল হক এবং সাতক্ষীরা-২ আসনের এমপি এম এ জব্বার। এর মধ্যে সমপ্রতি আবদুল মান্নান খান, মাহবুবুর রহমান ও আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মামলা করেছে দুদক।
