৪৬ লাখ ভোটার বৃদ্ধি পেতে পারে : আনিসুল হক

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২০:৪৪
 
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, চলমান হালনাগাদ ভোটার তালিকায় ৪৬ লাখ ভোটার বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি সোমবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। 
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আওতাধীন জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ ২০০৯ ও ২০১২ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ২০১৪ সালে তৃতীয়বারের মতো ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রম সারাদেশের তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে নিবন্ধন চলমান রয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
মন্ত্রী বলেন, তালিকা হালনাগাদকরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তর রয়েছে। যেমন- তথ্যাদি সংগ্রহের পর তা নির্ধারিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে ছবি, আঙ্গুলের ছাপসহ ভোটারের সকল তথ্য নিবন্ধন কেন্দ্রে এন্ট্রি করা হয়। এ তথ্যসমূহ উপজেলা সদরে এনে যাচাই বাছাই করা হয়। যাচাইকৃত ডাটা রেকর্ড করে ঢাকায় পাঠানো হয়। উপজেলা থেকে প্রাপ্ত ডাটা কেন্দ্রীয় ডাটা বেইজে আপলোড করে এর মাধ্যমে যাচাই করে চূড়ান্ত করা হয়।
তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় তালিকায় নতুনভাবে ভোটার যুক্ত হতে পারেন আবার বিদ্যমান তালিকা থেকে মৃত ভোটারের নাম কর্তন এবং যে সকল ভোটার বিভিন্ন কারণে স্থানান্তরের আবেদন করেছেন তাদের স্থানান্তরের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করেই ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়।
আনিসুল হক বলেন, তিনটি পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন কার্যক্রম অক্টোবর-নভেম্বর মাসে শেষ হওয়ার পর আগামী বছরের ২ জানুয়ারি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। এর ওপর আপত্তি শুনানি গ্রহণ করে ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, এবারের হালনাগাদে সম্ভাব্য ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির হার বিদ্যমান ভোটারের ৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। সে মোতাবেক আগামী ২ জানুয়ারি প্রকাশিতব্য খসড়া ভোটার তালিকায় আরো ৪৬ লাখ ভোটার বৃদ্ধি পেতে পারে।
সরকারি দলের আ ফ ম বাহাউদ্দিনের (নাছিম) এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে নির্বাচন কমিশন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত হালনাগাদ কার্যক্রমে রোহিঙ্গামুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে রোহিঙ্গা প্রবণ এলাকা কক্সবাজার জেলা, বান্দরবান জেলার ৪টি উপজেলা এবং রাঙ্গামাটি জেলার দু’টি উপজেলাকে বিশেষ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করে। এছাড়া ওই এলাকাসমূহে ভোটার তথ্য সংগ্রহের জন্য ভোটার নিবন্ধন ফরমের অতিরিক্ত একটি বিশেষ ফরম প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষ এলাকাগুলোতে অধিকতর সতর্কতার জন্য নতুন ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহকারীরা ভোটার নিবন্ধন ফরম ও বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করেন না। উক্ত বিশেষ কমিটির দ্বারা ভোটারযোগ্য ব্যক্তির নাগরিকত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইয়ের পর ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়।