উদ্ধার হওয়া তিন শিশুর ভাষ্যমতে, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তারা রান্নাঘরের গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ অবস্থায় তারা আটকা পড়ে বহুতল ভবনের কার্ণিশে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর শান্তিনগরের বহুতল ওই ভবনটির কার্নিশে ঝুলে থাকা অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেছে রমনা থানার পুলিশ।
তারা তিনজন গৃহকর্মী। তাদের নাম ফাতেমা আক্তার (১৩), কুলসুমা বেগম (১২) ও মো. শামীম (১১)। তারা ওই ভবনের সাত তলায় বসবাসরত নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা জজ নিয়াজী শহীদুল আলম চৌধুরীর বাড়িতে কাজ করত।
রান্নাঘরের জানালার গ্রিল কেটে পাইপ ও গ্রিল বেয়ে নিচে নামার সময় তিন তলায় গিয়ে শিশু তিনজন বিপজ্জনকভাবে ঝুলছিল। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কুলসুম টাওয়ারের তিন তলায় আজ বিকেল তিনটার দিকে শিশু তিনজনকে ঝুলতে দেখেন এক ব্যক্তি। তাঁর চিত্কারে কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকজন জমে যায়। এরপর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। তাঁরা এসে শিশুদের উদ্ধার করে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, শিশু তিনজনকে কার্নিশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাঁরা ঘুরে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে প্রতিবেদন পাঠান।
রমনা থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় রাতে তিন শিশুর কাছ থেকে জানা যায়, ফাতেমা এক বছর, কুলসুমা তিন বছর আর শামীম দুই মাস ধরে ওই বাসায় কাজ করছিল। প্রতিদিন ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ধোয়া-মোছা, কাপড় ধোয়া ইত্যাদি ছিল তাদের কাজ। কাজে ভুল হলেই গৃহকর্ত্রী তাদের মারধর করত। নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে তারা পালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু যখন সবাই বাড়িতে থাকে তখন তাদের পালানোর সুযোগ থাকে না। আর সিঁড়ি দিয়ে পালালে দারোয়ানের হাতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর গৃহকর্তা আদালতে এবং গৃহকর্ত্রী ছেলেকে নিয়ে স্কুলে গেলে তাদের বাইরে থেকে তালা মেরে দেওয়া হতো। বাইরে বের হলে তালা দিয়ে যেতেন তাঁরা। এ জন্য দুইদিন আগে শিশুরা সিদ্ধান্ত নেয় তারা গ্রিল কেটে নামবে। সেই অনুযায়ী বাসার ভাণ্ডারে পাওয়া একটি হেক্সোব্লেড নিয়ে রোববার সবাই বাসা থেকে বের হয়ে গেলে তারা রান্নাঘরের গ্রিল কাটা শুরু করে। আজ দুপুরের পরে তারা গ্রিলের ফোকর দিয়ে নামছিল।
শিশু তিনটি জানায়, তাদের তিনজনেরই বাড়ি ময়মনসিংহে। কুলসুমা ও শামীম মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন। ফাতেমাও তাদের দুঃসম্পর্কের আত্মীয়।
এ বিষয়ে ওই ফ্ল্যাটের বিচারকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। রাতে তিন শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের তেজগাঁওয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে তিন শিশুর স্বজনেরা এলে তাদের সিদ্ধান্ত ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
