বহুল আলোচিত জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুন (৭০) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গতকাল সোমবার ঢাকা কেন্দ্যনালের বিচারক মো. শাহেদ নূর উদ্দিন রাষ্ট্রপক্ষের ১০২তম সাক্ষী হিসাবে তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
সাক্ষ্যে জোবেদা খাতুন বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাকে ‘ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে’ তার ছেলেকে এ মামলায় ফাঁসিয়ে ‘জজ মিয়া নাটক’ সাজানো হয়েছে। তিনি জানান, তার ছেলেকে ধরে আনার পর তাকে সিআইডি কার্যালয়ে ডেকে আনা হয়। মামলার তখনকার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির রুহুল আমিন, আবদুর রশীদসহ অন্যরা তাকে বলেন, আপনার ছেলের বিষয়ে কোনো চিন্তা করবেন না। জজ মিয়া সাক্ষ্য দেয়ার পর তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে। যতোদিন সাক্ষ্য শেষ না হচ্ছে, ততোদিন আপনার সংসার চালাতে আমরা দুই হাজার টাকা করে দেব।
জোবেদা খাতুন বলেন, এভাবে ছয় মাসে সিআইডি অফিসে গিয়ে মোট সাড়ে ১২ হাজার টাকা এনেছিলাম। সপ্তম মাসে টাকা আনতে যাওয়ার আগে আমার মেয়ে খোরশেদা মিডিয়ার কাছে দুই হাজার টাকা করে নেয়ার কথা বলে দেয়। এ কারণে টাকা আনতে গেলে সিআইডি আর টাকা দেয়নি।
তিনি বলেন, এরপর থেকে ছেলেকে মামলা থেকে বাঁচাতে স্বামীর ভিটা বিক্রি করে অভাবে আছি। এখানে-সেখানে ভাড়া থেকে জীবন বাঁচাচ্ছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পরবর্তী তদন্ত কর্মকর্তা ফজলুল হককে সব ঘটনা খুলে বললে তিনি আমার ছেলে জজ মিয়াকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। ২০০৯ সালে মুক্তি পায় আমার ছেলে।
জজ মিয়ার বোন খোরশেদা গতকাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আগামী বুধবার সাক্ষীকে আসামি পক্ষের জেরার দিন ধার্য করেছে আদালত। জজ মিয়া ও খোরশেদার সাক্ষ্য পরবর্তী কোনো একদিন গ্রহণ করা হবে। বাদিপক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণে সহায়তা করেন এ মামলার চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান ও আকরাম উদ্দিন শ্যামল।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০৫ সাল নোয়াখালী থেকে জজ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। অধিকতর তদন্তে দেখা যায়, ঐ মামলাকে ‘ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য’ সুত্রাপুর থানার একটি মামলায় সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত জজ মিয়াকে ‘রাজসাক্ষী করার আশ্বাস দিয়ে’ তার কাছ থেকে ‘মিথ্যা জবানবন্দি’ নেয়া হয়।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গ্রেনেড হামলার পর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ হিসাবে ঘটনাস্থলে যাওয়া মেজর মারুফ হোসেনকে সোমবার আদালতে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গতকাল হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২৫ জনকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বাকি ১৯ আসামি পলাতক রয়েছেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রার আগে ঐ গ্রেনেড হামলায় দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ অন্তত ২৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়।
