সরকার তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে আন্তরিক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৯:৩৩
 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, বর্তমান সরকার তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক ও তৎপর রয়েছে।
তিনি মঙ্গলবার সংসদে জাতীয় পার্টির এ কে এম মাইদুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভারতে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরও তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং চাপ অব্যাহত রয়েছে। ভারতের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এযাবত অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহে তিস্তা চুক্তি দ্রুত সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর তাগাদা দেয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যৌথ নদী কমিশনের পরবর্তী বৈঠকের জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ভারতের নতুন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিষয়টি তাদের সক্রিয় বিবেচনাধীন আছে এবং এ বিষয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
লোকসভায় ভারতের বর্তমান সরকারের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা এ বিষয়ে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে আশা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের আসন্ন সভাতেও বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে পুনঃউত্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের প্রেক্ষিতে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এ প্রেক্ষিতে একই সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ৩৭তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে সমতা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সংক্রান্ত নানা কারিগরি বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, এই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের জানুয়ারিতে উভয় দেশের পানি সম্পদ সচিব পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিস্তার পানি বণ্টন সংক্রান্ত একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। তখন আশা প্রকাশ করা হয় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।
তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে চুক্তিটি এখনও সম্পাদন করা সম্ভব হয়নি। তবে চুক্তিটি সম্পাদনের বিষয়ে উভয় দেশের সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও চুক্তিটি স্বাক্ষর না হওয়ায় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন।