অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন জনতা ব্যাংক সরকারের সবচেয়ে ভালো ব্যাংক ছিল। এটা আর ঐ অবস্থায় নেই। সেজন্য দায়িত্ব নিতে হবে পরিচালনা পর্ষদকে। জনতা ব্যাংকের অনেক অবক্ষয় হয়েছে। তাদের ডিফলট রেটটা অনেক বেড়েছে। প্রায় সবকিছুই খারাপ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সোমবার জনতা ব্যাংকের বিদায়ী চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের করা এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে চাইলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এই মন্তব্যের ওপরে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে আমার ইচ্ছেই হয় না। উনি (বারকাত) যেটা বলেছেন, আমার মনেও নেই। আমার মনে হয় পাঁচ বছর তাকে রেখেছি, এটা যথেষ্ট।’
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগে অনেক বুদ্ধিজীবী (ইন্টেলেক্টচ্যুয়াল জায়েন্ট) আছেন যাদের দেখাশোনা করতে হয়। কিন্তু কাউকে সারাজীবন দেখা সম্ভব নয়। পাঁচ বছর তাকে রাখা হয়েছে। এটা যথেষ্ট।’ একজন চেয়ারম্যান অব দি বোর্ড যে অনন্ত কালের জন্য থাকবেন-সে রকম আশা করা ঠিক নয়।
এর আগে সোমবার এক অনুষ্ঠানে জনতা ব্যাংকের বিদায়ী চেয়ারম্যান আবুল বারকাত অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছিলেন, সুনামগঞ্জের হাওরে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় টাকা চেয়ে সুপারিশসহ জনতা ব্যাংকে চিঠি দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। টাকা না দেয়ায় জনতাসহ চার ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতির কথা বলে চার ব্যাংকের সিএসআর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। অথচ জনতা ব্যাংকের মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি নেই। এ ব্যাংকের সিএসআর স্থগিত করে অর্থমন্ত্রী বোকামি করেছেন, অন্যায় করেছেন এবং এক ধরনের নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে কত ধরনের আবেদন আসে আমি সেগুলোর যেখানে যেখানে পাঠাই সেগুলোর সব ধরনের রেকর্ড থাকে। সচরাচর আমি আবেদনের সাড়া দিই। আর চিঠির তো প্রশ্নই আসে না। তার (আবুল বারকাত) টার্ম শেষ হয়েছে। এটা আর রিনিউ করা হবে না। সেজন্য তার দুঃখ থাকতে পারে। পাচ বছর তাকে রেখেছি। যথেষ্ট। আওয়ামী লীগের সমর্থক অনেকেই আছেন।
সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বন্ধ করার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটার টার্ম শেষ হয়েছে। তাই সবারটাই বন্ধ করা হয়েছে। এটা খুব দেদারছে হচ্ছিল। ব্যাংকগুলোর সিএসআরে কোন অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর আরো ভালো ব্যবহার হতে পারে।
জনতা ব্যাংকের পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে দু-একটা তথ্যও আছে যেগুলো আমি বলতে পারি। ২০০৯ সালে জনতা ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি ছিল ৩৫৩ কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকার দিয়েছে ১০৮ কোটি টাকা। এখন হয়েছে সেটা হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণও অনকে বেড়েছে। ঐ সময় ছিল ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। এখন তা হয়েছে ৩ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা।
