দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাটের ফলন কম, দরপতনে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২০:০৮
 
এ বছর দক্ষিণ পশ্চিমের জেলা গুলোতে পাটের ফলন কম হয়েছে। সেই সাথে দরপতনের ফলে চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন ভালো ফলন হয়েছে।
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি বছরে যশোর জেলায় ২১ হাজার ৮৮০ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ১৯ হাজার ৭৮৫ হেক্টরে, মাগুরা জেলায় ৩২ হাজার ৭৩০ হেক্টরে, নড়াইল জেলায় ১৮ হাজার ৩৫০ হেক্টরে, খুলনা জেলায় ১৮ শ ২০ হেক্টরে, বাগেরহাট জেলায় ১৫ শ ২১ হেক্টরে, সাতক্ষীরা জেলায় ১০ হাজার ৫৭১ হেক্টরে, কুষ্টিয়া জেলায় ৩৫ হাজার ৩৩৫ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টরে ও মেহেরপুর জেলায় ২৩ হাজার ৩৯৫ হেক্টরে পাট চাষ হয়েছে। এবার পাট চাষের শুরু থেকেই চাষিদের বৈরি অবহাওয়া মোকাবিলা করতে হয়। পাট বীজ বপনের সময় বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিকে সেচ দিয়ে চাষ করতে হয়। পাট গাছের বৃদ্ধির সময় অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। এতে পাট গাছের বৃদ্ধি থেমে যায়। গাছ মোটা হয় না। এতে ফলন কম হচ্ছে বলে চাষিরা জানায়। বিঘা প্রতি সাড়ে ৪ মন থেকে ৮ মন ফলন হচ্ছে। গত বছর বিঘা প্রতি ৮ মন থেকে ১২ মন পর্যন্ত ফলন হয়েছিল।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাটগুলোতে প্রচুর পাট উঠছে। প্রতিমন পাট সাড়ে ১২ শ টাকা থেকে ১৫ শ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিস্টিক পাট বলে পরিচিত মাগুরা জেলার গড়াই তীরবর্তী এলকার পাটের দাম বেশি বলে ব্যবসায়ীরা জানায়। তা ছাড়া ফরিদপুর অঞ্চলে ভালো মানের পাট উত্পাদন হয়ে থাকে। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের চাষি বাচ্চু মোল্লা জানান, এবার ১৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৮ মন ফলন হয়েছে। পাট চাষে এবার তার ৬০ হাজার টাকা লোকসান হবে। একই উপজেলা পাইকপাড়া গ্রামের আকমল হোসেন বলেন, ৪ বিঘা জমিতে পাটচাষে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলন ভালো হয়নি। মোট ২৫ মন পাট হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মন সাড়ে ১২ শ টাকা থেকে ১৪ শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তার এবার আয় ব্যয় সমান হবে। মেহেরপুর সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের চাষি বাবলু মিয়া জানান, শুরু থেকে এবার পাট চাষে ব্যয় বেশি হয়েছে। সেচ দিয়ে বীজ বপন করতে হয়। তারপর অনাবৃষ্টি শুরু হওয়ায় সেচ দিতে হয়েছে। জাগ দেওয়াতেও সমস্যা। পুকুর ভাড়া নিতে বিঘা প্রতি ব্যয় ৫ শ টাকা। সব মিলিয়ে এবার পাট চাষে বিঘাতে ৯-১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। চাষে লোকসান। যশোর সদর উপজেলার চাষি ইজাজুল ইসলাম বলেন, খরার কারণে পাট লম্বা হয়নি। ফলন কম হচ্ছে।
কৃষি সমপ্রসাণ অধিদপ্তরের ফরিদপুরের উপ পরিচালক শংকর চন্দ্র ভৌমিক বলেন, হেক্টর প্রতি ৮-৯ বেল ফলন হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতি মন পাট সাড়ে ১২ টাকা থেকে ১৫ শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জুলাই মাসে নতুন পাট উঠার পর ১৪ শ টাকা খেকে ১৭ শ টাকা পর্যন্ত দরে ফরিদপুর জেলাতে পাট বিক্রি হয়েছিল। শুধু ফরিদপুর জেলা নয়, এ অঞ্চলে গড়ে প্রতি মন পাটের দাম ২ শ টাকা কমেছে।
কৃষি সমপ্রসারণ অধিপ্তরের মনিটনিং শাখা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর সার দেশে ৭ লাখ ২ হাজার হেক্টরে পাট চাষ হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, হেক্টর প্রতি ৮ বেলের বেশি পাট উত্পাদন হচ্ছে। পাট কাটা ও ধোয়া শেষ হলে উত্পাদনের সঠিক পরিমান জানা যাবে বলে ওই সুত্র জানায়। গত বছর  ৬ লাখ ৬৬ হাজার হেক্টরে পাট চাষ হয়েছিল। পাট উত্পাদনের পরিমান ছিল ৭৪ লাখ ৩৬ হাজার বেল। হেক্টর প্রতিগড় ফলন ছিল ১১ দশমিক ১৭ বেল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বারবার পাট চাষ করে লোকসান হলে আগামীতে পাট চাষের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশ স্বাধীনের পর এক সময় দাম না পেয়ে চাষি পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এরপর গত ৯-১০ বছর চাষিরা পাট চাষে আগ্রহী হয়।
 
ইঅ/চৌফে/শ৫৫৪