উপমহাদেশের কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।
এর আগে সন্ধ্যায় ফিরোজা বেগমের ছোট ছেলে শাফিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া তার কোনকিছুই কাজ করছে না।
ফিরোজা বেগমের জন্ম ১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান জেলা) রাতইল ঘোনাপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে। তাঁর বাবার নাম খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মায়ের নাম বেগম কওকাবুন্নেসা। ১৯৫৫ সালে বিরলপ্রজ সুরকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
এই শিল্পীর প্রথম রেকর্ড বের হয় ১৯৪২ সালে ১২ বছর বয়সে বিখ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি থেকে ইসলামী গান নিয়ে। কিছুদিন পর কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে উর্দু গানের রেকর্ড হয়। এ রেকর্ডের গান ছিল- 'ম্যায় প্রেম ভরে, প্রীত ভরে শুনাউ' আর 'প্রীত শিখানে আয়া।’
১৯৭২ সালে কলকাতায় বঙ্গ-সংস্কৃতি-সম্মেলন-মঞ্চে কমল দাশগুপ্তের ছাত্রী ও সহধর্মিণী হিসেবে তিনি ছিলেন মূখ্যশিল্পী। উভয়ের দ্বৈতসঙ্গীত সকল শ্রোতা-দর্শককে ব্যাপকভাবে বিমোহিত করেছিল।
পুরস্কার ও সম্মাননা
১২ই এপ্রিল, ২০১২ বাংলাদেশের বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ফিরোজা বেগম পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ‘বঙ্গ সম্মান’ পুরস্কারটি গ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রদত্ত এই পুরস্কার আরো পেয়েছেন ভারতের বিশিষ্ট শিল্পী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী, স্বগতালক্ষ্ণী দাশগুপ্ত ও নচিকেতা।
