অভিশংসন নয়, অপসারণের ক্ষমতা ফিরছে সংসদে: সুরঞ্জিত

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২০:৫৯
অভিশংসন নয়, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনের মাধ্যমে বিচারকদের ‘অপসারণের’ ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরছে বলে জানালেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বিলটি নিয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে মঙ্গলবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘অভিশংসনের’ কথা বলে স্বার্থান্বেষী মহল ‘অপপ্রচার’ করছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানান, বিলটিতে যে প্রস্তাবনা আছে আছে তা বাদ দেয়া হবে। এ ব্যাপারে কমিটির সদস্যরা একমত হয়েছেন, কারণ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিলেও কোনো প্রস্তাবনা ছিল না। এছাড়া বিলটির বিষয়ে মতামত নিতে সংসদীয় কমিটিতে বিশেষজ্ঞদের ডাকা হবে কি-না,  সেই বিষয়ে বৈঠকে আইনমন্ত্রীর মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। বুধবারের বৈঠকে আইনমন্ত্রীকে তার মতামত দিতে বলা হয়েছে, স্পেস পেলে কমিটি মতামত নেবে। একইসঙ্গে এ ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে কথা বলার জন্যও কমিটি আইনমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিলটি রবিবার সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ওইদিন বিলটি আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার বিষয়ে সুরঞ্জিত বলেন, কমিটি সাত দিনের আগেই সংসদে প্রতিবেদন দেবে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে কমিটি সভাপতি সুরঞ্জিত বলেন, অপসারণ ও অভিশংসনকে একাকার করে ফেলা হচ্ছে। স্বার্থান্বেষী মহল এমনভাবে অপপ্রচার করছে যাতে মনে হচ্ছে সরকার কোর্টকে নিয়ন্ত্রণ করতেই আইন করছে। কিছু দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ নেতারাও এতে যোগ দিয়েছেন। যারা এই অপপ্রচার করছেন, তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দূরভিসন্ধিমূলক কথা বলছেন। কারণ এখানে অভিশংসনের কোনো প্রশ্নই নেই। অভিশংসন শুধু রাষ্ট্রপতির জন্য। তাও কেবল রাষ্ট্রপতি যদি গুরুতর অসদাচরণ কিংবা সংবিধান লঙ্ঘন করেন।
সংসদে উত্থাপিত বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, বিলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের অপসারণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তারা তো নির্বাচিত প্রতিনিধি, আর বিচারপতিরা নিয়োগপ্রাপ্ত। আর অপসারণ সকল বিচারকের নয়, যারা অসদাচরণ করবেন কিংবা অসামর্থ্য হবেন তাদেরকেই কেবল অপসারণ। সুরঞ্জিত বলেন, ‘এদের হাত থেকে বিচার বিভাগ বাঁচতে চায়। যে কাজ করতে পারে না, তাকে কী রাখা উচিত্? পাগলকে রাখতে হবে?’
১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সংসদের হাতে এই ক্ষমতা থাকলেও এর কোনো প্রয়োগ না হওয়ার কথা তুলে ধরে কমিটি সভাপতি বলেন, বরং সামরিক শাসকই বিচারপতি কে এম সোবহান এবং কামালউদ্দিন আহমেদকে সরিয়েছিল। তিনি বলেন, কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ ওঠে তাহলেই কী তাকে অপসারণ করা হবে? তা নয়। এরজন্য ফলো-আপ আইন হবে। ওই আইনে তদন্ত কমিটির বিধান থাকবে। সংশ্লিষ্ট, দায়িত্বশীল, প্রাসঙ্গিক লোকদের দিয়ে করা হবে। তারা সংসদে বিষয়টি পাঠালে সংসদ শুধু অনুমোদন দেবে। অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির, তিনিই নিয়োগ দেন, সরাবেনও তিনি।
বিচারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে যে কমিটি করা হবে, সেখানে কারা থাকবেন- জানতে চাইলে সুরঞ্জিত বলেন, তা আইনেই বলা থাকবে। এতদিন অভিযুক্ত, তদন্তকারী, বিচারক একই লোক থাকতেন। তাহলে কি সুবিচার হয়? দেখতে হবে সকলে মিলে যাতে কমিটি হয়।
প্রস্তাবনা বাদ দেয়া হবে
সংসদে উত্থাপিত বিলের ‘প্রস্তাবনা’ অংশটি বাদ দেয়া হবে জানিয়ে সুরঞ্জি সেনগুপ্ত বলেন, ছোট্ট সংশোধনী, এতবড় প্রস্তাবনার দরকার নেই। এর আগে শুধু ১২ ও ১৩তম সংশোধনীতে প্রস্তাবনা ছিল। এখানে প্রস্তাবনা অসঙ্গতিপূর্ণ ও অসাঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, বিলের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সামরিক শাসক অসাংবিধানিক পন্থায় ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সামরিক ফরমানের (সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী) দ্বারা সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারককে অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের অভিযোগে অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের পরিবর্তে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে ন্যস্ত করে।
বিচারকদের সমমর্যাদার সাংবিধানিক পদধারীদের বিষয়ে ‘অস্পষ্টতার’ বিষয়ে সুরঞ্জিত বলেন, তাদের জন্যও একই কথা। তবে তাদের জন্য আইন আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ((ইসি), সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অপসারণ বিচারকদের ন্যায় একই পদ্ধতি ও কারণে হবে।