পুরনো ঢাকায় আলমারির মধ্যে ব্যবসায়ীর লাশ

ঘুমিয়ে পড়ার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় মান্টুকে

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২১:৫৩
 
 
নিমন্ত্রণ করে বাসায় ডেকে আনা হয়। বলা হয়, কাল সকালেই আপনার পাওনা টাকা পরিবেশ করা হবে। রাতের খাবার খেয়ে পাওনা দায়ের বাসায় ঘুমিয়ে পড়েন ব্যবসায়ী মান্টু। ভোর রাত। তিনি গভীর ঘুমে অচেতন। এরপর চারজনে মিলে  ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা হয়। আর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ,করা হয় এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত। লাশ ঢোকানো হয় কাঠের আলমারীর মধ্যে। পরের দিন রিকশাভ্যানে করে লাশভর্তি আলমারী ফেলো রাখা হয় রাস্তার পাশে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ব্যবসায়ী  মান্টু ওরফে বান্টুকে (৩৫) হত্যার এ বর্ণনা দিলেন গ্রেফতারকৃতরা। গত ১ সেপ্টেম্বর ওয়ারী থানা পুলিশ  পুরনো ঢাকার ৯/২ ভগবতি ব্যানার্জি রোডে কাঠের আলমারী থেকে অজ্ঞাত নামা হিসেবে মান্টুর লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। নিহত মান্টুর গ্রামের বাড়ি চাপাইনবাগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার তেলকুপি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকা থেকে তিনি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আম সরবরাহ করতেন। আমের টাকা নিতে এসেই তিনি খুন হন। ঘটনার ঘটনার তিনদিন পর মান্টুর বড় ভাই মোহাম্মদ শাহজাহান থানায় সংগৃহিত ছবি দেখে লাশ শনাক্ত করেন। এ হত্যাকান্ড সংগঠিত হয় ১১১/৩, উত্তর যাত্রাবাড়ী হিমেল হাসান ফরিদের ভাড়া বাসায়। মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফরিদ পলাতক রয়েছেন। জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ফরিদের স্ত্রী  শাহিনুর হাসান পান্না, ফরিদের ব্যবসায়ীক অংশীদার  মাসুদ খন্দকার ওরফে জনি, মো. ইমরান হোসেন ওরফে রাজা, রহমানকে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ গতকাল চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ফরিদেল স্ত্রী শাহিনুর হাসান পান্না বলেন, ফরিদ যাত্রাবাড়ী এলাকায় আমের ব্যবসায়ী। সে চাঁপাইনবাবগঞ্জর মান্টুর কাছ থেকে আম আনতোন। আর মান্টু মাঝে মধ্যে ঢাকায় এসে আমের টাকা নিয়ে যেতেন। ঘটনার দুই দিন আগে মান্টু বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে পাওনা টাকা নিতে ঢাকায় আসেন। এসময় তার স্বামীর কাছে পাওনা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। ঘটনার দিন ৩০ আগষ্ট ফরিদ মোবাইল ফোনে মান্টুকে নিমন্ত্রন করে বাসায় আনেন। কথা হয় পরের দিন মান্টুর সব টাকা তার স্বামী পরিশোধ করে দেবেন। এ অবস্থায় রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মান্টু। পরবর্তীতে তার স্বামী মোবাইল ফোনে ডেকে আনেন তার ব্যবসায়ী অংশীদার মাসুদ খন্দকার ওরফে জনি, ইমরান হোসেন ওরফে রাজা ও রহমানকে। এরপর তারা চারজনে মিলে প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর লাশ কাপড়ে জড়িয়ে ঢুকিয়ে রাখা হয় কাঠের আলমারীতে। পরের দিন বাসা বদল করার সময় লাশ ভর্তি আলমারী ভ্যানে করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে।
নিহত মান্টুর বড় ভাই মোহাম্মদ শাহজাহান দাবি করেছেন, ফরিদের কাছে তার ভাইয়ের পাওনা ছিল  ১০ টাকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে টাকায় এলে কখনও হোটেল অথবা বিভিন্ন আম ব্যবসায়ীর বাসায় থাকতো মান্টু। তবে ফরিদের স্ত্রীর দাবি টাকা ১০ লাখ নয়, ৫০ হাজার টাকা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওয়ারী থানার সাব-ইন্সপেক্টর জাহঙ্গির কবির খান বলেন, পাওনা টাকার জন্য আম ব্যবসায়ী মান্টুকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়। কারণ ঘটনার পরপরই ফরিদ বাসা বদল করে অন্যত্র বাসা নেয়। আসামীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাতে নিহত ব্যবসায়ী মান্টুর সঙ্গে তার বড় ভাই শাহজাহানের সঙ্গে কথা হয়। সে ময় মান্টু তাকে জানিয়েছিল,যে রাতে তিনি ফরিদের বাসায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, মান্টুর ভাইয়ের দেয়া তথ্যমতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় ফরিদের স্ত্রী পান্নাকে। ব্যাপক জিজ্ঞাসবাাদের এক পর্যায় হত্যার কথা স্বীকার করে। এরপরই গ্রেফতার করা হয় জনি, ইমরান ও তারেককে। এরাও হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বাসা থেকে আলমারীতে করে লাশ নেয়ার সময় ভ্যান ভাড়া করেছিল তারেক। বর্তমানে তারেক ও ফরিদ পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।
 
ইঅ/চৌফে/শ৫২৫