খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ কিলিং মিশনের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনা, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন, মো. শহিদুর এ রহমান (৩৪), মো. কামরুজ্জামান (৩৬), মো. মেহেদী হাসান (৪৩), মো. গোলাম মাওলা মজুমদার (৪৪) ও মো. আজাদ হোসেন (৩০)। এদের মধ্যে তিনজন ঢাকা ও দুইজন ফেনী এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়।
জানা গেছে, সোমবার রাতে মোটরসাইকেলে পুলিশের ন্যামপ্লেট লাগিয়ে ঢাকা থেকে রামগড়ে আসে আটককৃতরা। মঙ্গলবার সারাদিন রামগড় থাকার পর বিকেলে তারা চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। জেলার মানিকছড়ি উপজেলায় গেলে গাড়িতে পুলিশের স্টিকার দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পরিচয় জানতে চায়। এ সময় আটকৃতরা পুলিশের ডিবি পরিচয় দিয়ে পুনরায় রামগড়ে ফেরার চেষ্টা করেন। তাদের গতিবিধি ও কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে। এ সময় তাদের গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আমেরিকার তৈরি একটি রিভালবার ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। পরে তাদের থানায় নিয়ে দেহ তল্লাশি করে আরো ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান, তারা রামগড়ে এক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে আসে। সেখান থেকে তারা পাহাড় দেখার উদ্দেশ্যে গুইমারাতে আসেন। তাদের সাথে রাখা অস্ত্রটি মো. শহিদুর এ রহমানের নামে লাইসেন্স করা। তার বাবা সাবেক ইনকাম টেক্স অফিসার ছিলেন।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি লাইসেন্সকৃত হলেও এলাকার বাহিরে নিয়ে ঘুরাফেরা করার কোন নিয়ম নাই। এছাড়া তাদের মোটরসাইকেলে পুলিশের স্টিকার লাগানো ছিল। ধারনা করা হচ্ছে, বড় কোন মিশন নিয়ে তারা পাহাড়ে আসে।
গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউসুফ মিয়া জানান, আটককৃতদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
