প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম সাক্ষাত্ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হচ্ছে নিউইয়র্কে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনের সাইড লাইনে দুই প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক হবে। এতে কংগ্রেস সরকারের আমল থেকে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি ও সীমান্ত চুক্তি বিলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করবেন তারা। নরেন্দ্র মোদী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সফর করবেন। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদী ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক এবং ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসি সফর করবেন। শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী উভয়েই ২৭ তারিখে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন।
ঢাকা, নয়াদিল্লী ও নিউইয়র্কের কয়েকটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদীর সাক্ষাতের সময় প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে। সহসাই দুই প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি সমন্বয় করে সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।
গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হবার পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। অন্যদিকে ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতা গ্রহণের পর এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন নরেন্দ্র মোদী। তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হলেও একই সময়ে পূর্বনির্ধারিত জাপান সফরের কারণে নয়াদিল্লী যেতে পারেননি শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান শেখ হাসিনা। মোদী আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেন। আসন্ন ডিসেম্বরে ঢাকা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ঢাকা ও নয়াদিল্লীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এখন দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকের সময় ও আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করছেন। কয়েক বছর ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি ও সীমান্ত বিল– এই দুটো ইস্যু এজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত সহযোগিতা ইস্যু রয়েছে। আঞ্চলিক উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতাও প্রাধান্য পাবে।
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার অবশ্য পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের ধারাবাহিকতায় ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি সই ও সীমান্ত চুক্তি বিল অনুমোদনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিস্তা চুক্তি সই করতে পশ্চিম বঙ্গের রাজ্য সরকারকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে নয়াদিল্লীর বিজেপি সরকার। আর স্থল সীমান্ত চুক্তির প্রটোকল বাস্তবায়ন করতে সংবিধানে সংশোধন বিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এ কমিটির রিপোর্টের পর বিলটি রাজ্যসভা ও লোকসভার অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে। গত ডিসেম্বরে তত্কালীন কংগ্রেস সরকার বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করে। সোমবার নয়াদিল্লীতে বিজেপি সরকারে একশ দিন পূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকদের একথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
ওবামা-মোদী বৈঠক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর দুইদিন ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওয়াশিংটন ডিসি ও নয়াদিল্লীর কর্মকর্তারা জানান, হোয়াইট হাউজে দুই নেতা দুইদিন ধরে আলোচনা করবেন। মার্কিন প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও ঘনিষ্ঠ ও সম্প্রসারণ করাই এই বৈঠকের লক্ষ্য। অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তারা আলোচনা করবেন। দ্বিপাক্ষিক ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুও প্রাধান্য পাবে।
ভারতের গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে ২০০২ সালে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গায় উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রী মোদীকে ঐ দাঙ্গায় উস্কানিদাতা বলেও মনে করা হয়। এরপর ২০০৫ সালে নরেন্দ্র মোদীকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তখন থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ। গত মে মাসে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হবার পর অবস্থান পাল্টায় মার্কিন সরকার। মার্কিন প্রশাসনের একজন বড় কর্তা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দূত হিসাবে নয়াদিল্লী এসে নরেন্দ্র মোদীকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানান। তার ভিত্তিতেই হোয়াইট হাউজে ওবামা ও মোদীর বৈঠক হবে।
নওয়াজ ও মোদীর বৈঠকের চেষ্টা
ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লীর কর্মকর্তারা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন। নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড লাইনে এই বৈঠকের জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর কোন এক ফাঁকে সময় বের করার চেষ্টা করছেন। নরেন্দ্র মোদী নিউইয়র্কে ৪৮ ঘন্টারও কম সময় থাকবেন। নওয়াজ শরীফ গত ২৬ মে নরেন্দ্র মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নয়াদিল্লী যান। তারা তখন দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও করেন
