বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার-নার্স নিয়োগ ও ওষুধ আমদানি করবে মালদ্বীপ। আর ভারতের সঙ্গে সনাতন ওষুধের কাঁচামাল আদান-প্রদান করবে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে কালাজ্বর নির্মূলে অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনের প্রথম দিনে এ সংক্রান্ত তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল ও থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা নিজ নিজ দেশের পক্ষে কালাজ্বর নির্মূলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর শেষে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এদেশের ২৫টি জেলার ১শ’ উপজেলায় কালাজ্বরের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এ রোগ প্রতিরোধে ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করেছে। এর ফলে কালাজ্বর ৯০ ভাগ নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। এখন আমরা সবাই একত্রে কাজ করলে কালাজ্বর শতভাগ নির্মূল করা সম্ভব হবে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপে দেখা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৪ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ কালাজ্বরের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে এ রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ভুটান ও থাইল্যান্ডও কালাজ্বরের ঝুঁকিতে রয়েছে। বেলে-মাছির মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হয়। গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে কালাজ্বর ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।
এদিকে বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার-নার্স নিয়োগ ও ওষুধ আমদানির বিষয়ে সম্মত হয়েছে মালদ্বীপ। চিকিত্সা সংক্রান্ত বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, বাংলাদেশের মেডিক্যাল ও নার্সিং কলেজে মালদ্বীপের ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক ও মালদ্বীপের পক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুসাইন রশীদ এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এর আগে ভারতের সঙ্গে সনাতন ওষুধের কাঁচামাল আদান-প্রদান সম্পর্কিত একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজউদ্দিন ও ভারতের পক্ষে সিদ্ধা ও হোমিওপ্যাথিক বিভাগের সচিব নীলাঞ্জন সান্যাল সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এর ফলে প্রশিক্ষণ ও দু’দেশের আইন অনুযায়ী দক্ষ চিকিত্সক আদান-প্রদান করা যাবে। এছাড়াও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান এবং একটি একাডেমিক চেয়ার স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. মার্গারেট চ্যান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পুনাম ক্ষেত্রাপাল সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন।
