অটিজমে বাংলাদেশের চালিকা শক্তি সায়মা হোসেন

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১১:৫৪
 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘অ্যাক্সিলেন্স ইন পাবলিক হেলথ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন অটিজম বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা হোসেন পুতুল। নিউরো-ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডারস এবং অটিজম বিষয়ে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে এ সম্মাননা দেয়া হলো। 
গতকাল বুধবার রাত ৮টায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এশিয়ার ১১টি   দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের সম্মেলনে সায়মা হোসেন পুতুলের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং।
সায়মা হোসেন এ অঞ্চলে এবং বিশ্বব্যাপী অটিজম বিষয়ে বাংলাদেশের যে ভূমিকা তার চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিহিত করেন ড. ক্ষেত্রপাল সিং। তিনি বলেন, অটিজম স্পেকট্রাম ডিজিজেস এবং চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডারস বিষয়ে পুতুলের কর্মপ্রচেষ্টা বহুমুখী অংশীদারিত্ব গঠনে সাহায্য করেছে, আর তার ফলশ্রুতিতেই জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে বিশেষ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা মশিউর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিংয়ের উদ্যোগে চলতি বছর থেকে এই অঞ্চলের ১১টি দেশের জন্য এই পুরস্কার চালু করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবছর একজন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডারস ও অটিজমের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সায়মা হোসেন পুতুল।
পূর্ব তিমুরের ন্যাশনাল ম্যালেরিয়া কন্ট্রোল প্রোগ্রামের (এনএমসিপি) গুরুত্বপূর্ণ অবদানেরও স্বীকৃতি প্রদান করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
জন্ম-মৃত্যুর হিসাব রাখতে সিআরভিএস ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন
শক্তিশালী সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস্ (সিআরভিএস) ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রীরা। গতকাল আঞ্চলিক কমিটির ৬৭তম বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও নীতি নির্ধারকরা বলেন, কার্যকর স্বাস্থ্য পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে পরিলক্ষিত হয়ে আসছে। তাই এ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য একটি জাতীয় সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস্ (সিআরভিএস) ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তারা বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে এবং ক্রমাগতভাবে তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে, যা আইনি নির্দেশনার দ্বারা সরকারি প্রতিষ্ঠান, জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়, পুলিশ বিভাগ ও স্বাস্থ্য খাতসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে। বৈঠকে নীতি নির্ধারকরা বলেন, নাগরিক নিবন্ধন, জনজীবনের মূল বিষয়গুলো, যেমন জন্ম, মৃত্যু, মৃত্যুর কারণ ও বিবাহ, গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান এবং সংরক্ষিত তথ্য সবার হাতে হাতে পৗঁছে দিতে হবে, যাতে করে এটা জাতীয় উন্নয়নের মূল্যায়ন এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
মালদ্বীপে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর আহ্বান
স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা দিতে সে দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে সেদেশে অবস্থানরত অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা দেবারও আহ্বান জানান তিনি। সন্ধ্যায় সোনারগাঁও হোটেলে মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রী হুসেইন রশিদের সাথে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকে এ আহ্বান জানান মোহাম্মদ নাসিম।
বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মালদ্বীপে প্রচুর বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছে। যাদের বেশিরভাগ হেলথ কাভারেজ পান না। যেহেতু মালদ্বীপ তার দেশের জনগণকে হেলথ কাভারেজ দেয়, ফলে বাংলাদেশের শ্রমিকদেরকেও হেলথ কাভারেজে অন্তর্ভুক্ত করে স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা দিতে বলেছি। মোহাম্মদ নাসিম জানান, তারা বলেছেন বিষয়টি বিবেচেনায় নিয়ে কাজ করবে।
এরপর ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রী লিয়োনপো তানদিন ওয়াংচুকের সঙ্গেও দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক করেন মোহাম্মদ নাসিম। উভয় বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশেই আমাদের এখান থেকে চিকিত্সক ও নার্স যাবেন। তারা এ বিষয়ে বেশ আগ্রহী। এছাড়াও মেডিক্যাল কলেজগুলোতে দুই দেশের শিক্ষার্থী বৃদ্ধি করতে তারা অনুরোধ করেছেন। আমরা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছি। তিনি জানান, দুই দেশের সঙ্গে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো তদারকির জন্য আমাদের দেশে দুইটি এবং মালদ্বীপ ও ভুটান তাদের দেশে একটি করে কমিটি তৈরি করবে।