বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) প্রিলিমিনারি (প্রাথমিক বাছাই) পরীক্ষার নম্বর ১০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০ করার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ-কালের মধ্যেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে। তবে আগের মতো বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) পদ্ধতিতেই এবারের প্রিলিমিনারী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নতুন নিয়ম কার্যকর করে শিগগিরই ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে পিএসসি (বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন)। নতুন বিধিমালা প্রকাশের দু’একদিনের মধ্যেই ৩৫ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন পিএসসির চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শুনেছি বিধিমালা চূড়ান্ত হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আশা করছি আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারবো।’
‘দ্য বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (এইজ, কোয়ালিফিকেশন অ্যান্ড এক্সামিনেশন ফর ডিরেক্ট রিক্রুটমেন্ট) রুলস ১৯৮২’ সংশোধন করে বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর পাশাপাশি সময় দুই ঘণ্টা করা হচ্ছে। এই রুলসটি বর্তমানে বাংলা ভাষায় রূপান্তর করা হচ্ছে। রূপান্তর করার মধ্যেই কিছু নিয়ম পরিবর্তন ও যোগ করার সুপারিশ করে পিএসসি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এতে কিছু পরিবর্তন এনে চূড়ান্তও করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, বিসিএসের নতুন বিধিমালা প্রায় চূড়ান্ত। বিসিএস নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেছে। দুই-একদিনের মধ্যেই বিসিএস নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের আদেশ (এসআরও) জারি করা হবে। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি যেভাবে অনুমোদন দিয়েছিল সেভাবেই সংশোধিত বিধিমালার এসআরও জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিধির জন্য আটকে আছে বিজ্ঞপ্তি
পিএসসি জানিয়েছে, নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন না হওয়ার কারণে ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে নতুন বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করছেন সরকারি চাকরি প্রত্যাশীরা। এই চাকরির প্রত্যাশী অনেকের বয়সও শেষ হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ফলে ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৯ মাস পর সরকারি চাকরিতে যোগদান পরীক্ষার নতুন বিজ্ঞপ্তি পেতে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।
৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে পিএসসি’র চেয়ারম্যান আরো বলেন, নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত হলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে সময় লাগবে না। আমাদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত।
নতুন বিধিতে যা থাকছে
সংশ্লিষ্টসূত্র জানিয়েছে, সংশোধিত বিধিমালায় পরীক্ষার আবেদনপত্রের মূল্য ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। তবে প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত তথা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য ২৫০ টাকা থেকে কমিয়ে আবেদনপত্রের মূল্য ১০০ টাকা করা হচ্ছে। মৌখিক পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের কম পেলে প্রার্থী কোনো নম্বর পাননি বলে গণ্য হবে, আগে যা ছিল ২৫ শতাংশ। বর্তমানে পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এ পাঁচটি বিষয়ে প্রার্থীদের দক্ষতা যাচাই করা হয়। শূন্যপদ ও প্রার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় একটি কাট নম্বর ধরে পরীক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করা হয়। নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষার পূর্ণ নম্বর ২০০ করা হলে অন্তত আরো একটি বিষয় বাড়তে পারে। মানসিক দক্ষতা যাচাইয়ের ব্যাপারে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সুপারিশও রয়েছে। প্রিলিমিনারীর পাশাপাশি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পদ্ধতি এবং নম্বর বণ্টন পরিবর্তনের জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনশ নম্বরের প্রস্তাব ছিল পিএসসির
বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ৩০০ নম্বরের করাসহ কয়েকটি বিষয়ে নিয়োগ বিধি সংশোধন চেয়ে গত মে মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় পিএসসি। মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে গত ১১ মে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে তুললে কমিটি প্রিলিতে ২০০ নম্বর রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়।
উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম ইসমাত আরা সাদেক জাতীয় সংসদে বলেন, ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৭৪৯ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে।
