মহিউদ্দিন চট্টগ্রাম বন্দর ধ্বংসের চক্রান্ত করছেন: সংসদীয় কমিটি

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২১:১৬



চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) ধ্বংস করে দেয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করা এবং দেশের স্বার্থবিরোধী এ তৎপরতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের মুখোশ খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। একইসঙ্গে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে চক্রান্তকারীদের মদদ দানকারী হিসেবেও কমিটি অভিযুক্ত করেছে। এনিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ দেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব অভিযোগ করা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য মো. আবদুল হাই সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় কমিটির সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ও  হাবিবর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আবদুল হাই অভিযোগ করেন, সরকারের সঠিক নজরদারীর ফলে চট্টগ্রাম বন্দর যখন বিশ্বমানের বন্দর হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে, ঠিক তখনই স্বার্থনেষী মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী দেশ ও জাতির স্বার্থ পরিপন্থী আন্দোলন করছেন। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই তিনি এই কাজ করছেন। তিনি বলেন, মহিউদ্দিন কোনো বিশেষ একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ নিয়ে এই আন্দোলন করছেন বলে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত এর একটি সুরাহা করতে আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো।  

আবদুল হাই বলেন, কোনো অশুভ শক্তির দ্বারা প্রভাবিত বা কার ইঙ্গিতে তিনি (মহিউদ্দিন) দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের ক্ষতি করছেন তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উদ্বিগ্ন। অচিরেই এ ধরনের ঘৃন্য অপতৎরতার সঙ্গে জড়িত সব স্বার্থন্বেষীদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজ বন্দরের জিসিবি এলাকায় কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করে নিচ্ছে। তারা কন্টেইনার প্রতি ৪৪৫ টাকার পরিবর্তে ৯০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে প্রতিমাসে ৫০ লাখ টাকা করে বছরে ৬ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এই দুর্নীতির টাকাই ব্যয় করা হচ্ছে অপপ্রচারে।

তিনি বলেন, একই জায়গায় সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করেছে। ২০ ফুট কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে প্রতি দিন নিচ্ছেন ২৫৬ টাকা, প্রতি মাসে এই ব্যয় ৭ হাজার ৬৭৫ টাকা। এছাড়া ৪০ ফুট কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে প্রতিদিন ২১৭ টাকা এবং প্রতিমাসে ৬ হাজার ৫১১ টাকা নিচ্ছেন। সাবেক মেয়র তাই বিশেষ স্বার্থ হাসিলের জন্য অপেক্ষকৃত কম মূল্যের কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং কোম্পানির চেয়ে বেশি মুনাফাখোর এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজের পক্ষ নিয়েছেন।

এদিকে কমিটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকালে চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির পক্ষ হতে বন্দরে বিদ্যমান অস্থিরতা ও কৃত্রিম সংকট নিরসনে সংসদীয় কমিটির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। কমিটি সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্যরা ছাড়াও বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে চট্টগ্রামের এমপিদের মধ্যে মো. আফছারুল আমীন, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সামশুল হক চৌধুরী, মাহাফুজুর রহমান ও মুস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।