পৃথিবী নামক গ্রহের অস্তিত্ব হুমকির মুখে: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২১:৪৪
 
 
 
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনসহ পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের অবক্ষয়ের ফলে পৃথিবী নামক গ্রহের অস্তিত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। বাংলাদেশ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মানিকগঞ্জ-২ আসনের মমতাজ বেগমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।
একই প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ মন্ত্রী জানান, দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা ও মানুসের বিলাসী জীবনের চাহিদা পূরণ করতে প্রতিনিয়ত চাপ বাড়ছে প্রকৃতির সম্পদের ওপর। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ, সংকটাপন্ন হচ্ছে প্রতিবেশগত ভারসাম্য। এর ফলে পানি দূষণ, বায়ূ দূষণ, শিল্পকারখানার বর্জ্য সৃষ্ট দূষণ, শব্দ দূষণসহ  নানা পরিবেশগত সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশ। তিনি আরও জানান,  দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ন, যত্রতত্র শিল্পকারখানা স্থাপন, অপরিশোধিত শিল্প বর্জ্য, সনাতন পদ্ধতির ইটভাটা, অপর্যাপ্ত ও সনাতন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, পলিথিন সামগ্রির ব্যবহার, গৃহস্থালি বর্জ্য হতে সৃষ্ট দূষণ, পরিবেশগত ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া নির্মাণ কাজ পরিচালনা ও বহুতল ভবনে স্থাপিত ডিজেল জেনারেটর দ্বারা শব্দদূষণসহ নানা কারণে ঢাকাসহ দেশে পরিবেশ দূষণ ঘটছে।
ঝিনাইদহ-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য তাহ্জীব আলম সিদ্দিকীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দূষণ রোধে বিভিন্ন এলাকায় যে তহবিল দেয়া হয়, সেগুলোর কার্যক্রম ঠিকমত না হলে প্রয়োজনে অর্থ ফেরতও নেয়া হয়। কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে। বেশ কিছু এলাকা থেকে ইতোমধ্যে অর্থ ফেরতও নেয়া সম্ভব হয়েছে।
নাটোর-২ আসনের শফিকুল ইসলাম জুয়েলের এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সংসদকে জানান, শিল্প দূষণ রোধে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীর প্রতিবেশ এর সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইসিএ ঘোষিত নদীগুলোর পানির গুণগত মান, দূষিত পানির নির্গমণ বন্ধ, স্টেকহোল্ডারদের সচেতনতা সৃষ্টি এবং জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণের মাধ্যমে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে প্রাকৃতিক জীবন দানের লক্ষ্যে জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িতব্য ‘ইকোলজিক্যাল রেস্টোরেশন অব ফোর রিভার্স এরাউন্ড ঢাকা সিটি’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের ইআরডিতে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণের অন্যতম কারণ হাজারীবাগ এলাকায় অবস্থিত ট্যানারী শিল্পের বর্জ্য। শিল্পসমূহ কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপনপূর্বক ঢাকার বাইরে সাভারের হরিণধারায় অবস্থিত চামড়া শিল্প নগরীতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে ট্যানারী শিল্পকারখানাকে পরিবেশ সম্মতভাবে সাভারের হরিণধারায স্থানান্তর করার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করা যায়।
শীতলক্ষ্যা নদীসহ আশপাশের এলাকার দূষণ সম্পর্কে জাসদের শিরিন আক্তারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ঢাকার পাশের চারটি নদীর দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি সফরের মাধ্যমে জাপান জয় করেছেন। তার এই সফরে চারটি নদীর জন্য পাঁচ বিলিয়নের বেশি মার্কিন ডলার দিতে রাজি হয়েছে জাপান। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত জাপান আমাদেরকে যত সাহায্য করেছে, এবার প্রধানমন্ত্রী তার সফরে সে পরিমাণ অর্থ নিয়ে এসেছেন। এই প্রসঙ্গে প্রশ্নকারী সংসদ সদস্যের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনা ছাড়া কখনও পরিচালিত হননি, এখনও হন না।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সদস্য শামীম ওসমানের এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ মন্ত্রী জানান, জলাশয় ভরাট সংক্রান্ত সংশোধিত আইন জারির আগেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনভূক্ত বোয়ালীয়া খাল, বোট খাল ও হীরালাল খাল ভরাট করা হয়েছে। বর্তমানে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এখানে এক সময খাল ছিল। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) জারি হওয়ার পর থেকে পরিবেশ আধিদপ্তর থেকে জলাশয় ভরাটকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
পরে শামীম ওসমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, নারায়ণগঞ্জের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে এক কিলোমিটার জুড়ে বর্জ্য ফেলার বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদভূক্ত। এটি সিটি করপোরেশনের অধীনে নয়। তারপরেও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনে উপজেলা পরিষদকে পরিবেশ মন্ত্রণালয় অনুরোধপত্র পাঠাতে পারে।
বাঘ শুমারি এ বছর সমাপ্ত হবে:
খুলনা-৬ আসনের নূরুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ২০০৪ সনে পরিচালিত বাঘ শুমারী অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ৪৪০টি। গতবছর অত্যাধুনিক ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে পুনরায় বাঘ শুমারী শুরু হয়েছে, যা এ বছর সমাপ্ত হবে। তিনি জানান, ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের সুরক্ষার্থে সরকার ২০১৫ সাল পর্যন্ত সুন্দরবন থেকে সকল প্রকার গাছ কাটা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
ইঅ/চৌফে/শ৬৩২