তিস্তার অব্যাহত ভাঙ্গনে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে প্রায় ৪শ’ পরিবার। তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তাদের। এক সময়ের স্বচ্ছল গৃহস্থও এখন দিনমজুরে পরিণত হয়েছেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ভাঙ্গনকবলিত এই পরিবারগুলো অসহায় হয়ে পড়লেও কেউই তাদের খোঁজ নিচ্ছে না। এদিকে মেঘনায়ও ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ দিনে ভোলার দৌলতখান উপজেলার প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় দেড় শ’ পরিবার বসতভিটা হারিয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। আবার অনেকে আশ্রয় নিয়েছে পথে-ঘাটে।
গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা কমল কান্ত রায় জানান, সরেজমিনে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে করুণ চিত্র। লোকজন বলছেন, গত বিশ বছরেও এমন ভাঙ্গন দেখেন নি তারা। ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলো বাঁধ কিংবা উঁচু জায়গায় বসবাস করছে। উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান হাজীপাড়া এলাকার বাচ্চু মিয়া জমিজমা হারিয়ে এখন পরিবার নিয়ে পাইকান আকবরীয়া মসজিদ মাঠে খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। দিনমজুরের কাজ করছেন। পাইকান গ্রামের স্বচ্ছল কৃষক শাহজাদার জমি ছিল ১০ একরের মত। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে সেই কৃষক এখন নিঃস্ব। পরিবারে সদস্য সংখ্যা ১৪। জুম্মাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি টিনের চালা তৈরী করে কোনরকমে দিন কাটাচ্ছেন। স্কুলের শিক্ষক নুরল ইসলাম বলেন, তাদের কোন উপায় নেই। বাধ্য হয়ে স্কুলে থাকছেন তারা। পাইকান এলাকায় বাচ্চু ও শাহজাদার মত আরো অসংখ্য পরিবার এখন নিঃস্ব বলে তিনি জানান।
উপজেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭ ইউনিয়নে প্রায় ৪’শ পরিবার তিস্তার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান এলাকায় ভাঙ্গন কবলিত পরিবারের সংখ্যা বেশী।
ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি আফসার উদ্দিন বাবুল জানান, দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে মেঘনায় ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে দেড় শতাধিক বাড়ি-ঘর, স্থাপনা ও ৬শ’একর ফসলি জমিসহ প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকা তলিয়ে গেছে মেঘনায়। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ২৫/৩০ হাত করে এলাকা ভাঙ্গছে। ওই ইউনিয়নের চরপদ্মা ও চরমুন্সি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য পরিবার আশ্রয় নিয়েছে ভোলা ও নোয়াখালির বিভিন্ন এলাকায়। আর যারা এখনও সেখানে বসবাস করছেন, তারা রয়েছেন আতংকের মধ্যে।
সরেজমিনে গেলে মদনপুর ইউনিয়নের চরমুন্সি গ্রামের মিলন পাটোয়ারি ও শাজাহান মুন্সি জানান, মাত্র দশ দিন আগে গ্রামের দস্তগির চেয়ারম্যান বাজারের অন্তত ৩৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফজলুল হক শাহ ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ও ৪টি মসজিদ মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। অপর বাসিন্দা আবুল খায়ের জানান, মেঘনার ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে ওই এলাকার অন্তত দুই শতাধিক পরিবার ভোলা সদরের ধনিয়া, কাচিয়া, শিবপুর, ব্যাংকের হাট, ভেলুমিয়া, ইলিশা ও নোয়াখালির বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।
মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন নান্নু বলেন, সরকার ভোলা শহরের তুলাতলি এলাকায় ব্লক ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। এতে ওই এলাকার ভাঙন রোধ হলেও মেঘনার স্রোত সেখানে ধাক্কা খেয়ে বিপরীত দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফলে মদনপুর ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি গৃহহারা পরিববারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ ও তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
ইঅ/চৌফে/শ৪২১
