সংসদে তিন জাপা নেতার ঝগড়া

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০০:০৫

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সূত্র জানিয়েছে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর বিরোধীদলীয় সদস্যদের লবিতে জাপার তিন নেতা ঝগড়া করেছে। জাতীয় পার্টির (জাপা) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ থেকে বাদ পড়া দুই নেতা মসিউর রহমান (রাঙ্গা) ও তাজুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহম্মেদের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। এ সময় দুই পক্ষ উচ্চস্বরে ধমকাধমকিও করেছে।

সূত্র জানায়, সংসদ লবিতে বসা জিয়াউদ্দিনকে উদ্দেশ করে মসিউর রহমান জাপার রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়া এবং তাঁকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ থেকে অব্যাহতির বিষয়ে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। মসিউর ও জিয়াউদ্দিন কাছাকাছি আলাদা সোফায় বসা ছিলেন।
জিয়াউদ্দিনকে উদ্দেশ করে মসিউর রহমান বলেন, ‘এত বছর ধরে রাজনীতি করছি, হুট করে দল থেকে বের করে দেওয়া কি সঠিক হয়েছে? মানুষের কাছে এভাবে ছোট করা কি ঠিক হলো?’ এ পর্যায়ে জিয়াউদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এ সময় মসিউর উচ্চকণ্ঠে জিয়াউদ্দিনকে চুপ করতে বলেন এবং এ জন্য তাঁকে দায়ী করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় পাশে থাকা তাজুল ইসলামও মসিউরের সমর্থনে কথা বলা শুরু করেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বিষয়ে জিয়াউদ্দিনের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তাজুল বলেন, ‘এত দিন আমাকে নিয়ে কেউ কথা বলতে পারেনি। এখন আমার বিরুদ্ধে দুর্নাম করা হচ্ছে। উপনেতা হতে না পেরে এসব আজেবাজে কথা বলছেন।’ এ সময় বিরোধীদলীয় লবির ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ পর্যায়ে তাজুলকে উদ্দেশ করে জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘আপনি বড় নেতা হলেন কবে। এক-এগারোর সময় অন্য দলে গিয়েছিলেন। বিএনপি থেকে এরশাদ সাহেবের বিরুদ্ধে নির্বাচনও করেছেন।’ এ পর্যায়ে মসিউর হাত উঁচিয়ে জিয়াউদ্দিনের দিকে তেড়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তবে অন্যদের হস্তক্ষেপে ঘটনা আর বাড়েনি।
জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম কথা-কাটাকাটি হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তবে জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ কথা-কাটাকাটির কথা অস্বীকার করেছেন। আজ রাতে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘রংপুরে কারা নাকি রাঙ্গার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। সে জন্য সে কিছুক্ষণ চিল্লাচিল্লি করেছে। এ সময় আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ আরও অনেকে ছিলেন। আমরা চুপচাপ ছিলাম।’ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তখন লবিতে উপস্থিত ছিলেন না।