পানি কমতে থাকার সুযোগে কাশ্মিরের বন্যা উপদ্রুত এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৭৭ হাজার মানুষকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরক্ষা বাহিনী। মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে অন্তত সাড়ে ৮০০ সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি কমে যাওয়ার পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে মৃতের মোট সংখ্যা জানা যাবে এবং তা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানি কমতে থাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এ দিকে যেসব এলাকায় মানুষ বন্যার ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়েছে সে সব এলাকায় ব্যাপক চুরি ও লুটতরাজের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শ্রিনগরে যারা ঘর তালা না দিয়ে দ্রুত বাড়ি ছেড়েছিল তাদের বাড়িতে চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
কাশ্মিরে যোগাযোগ ব্যাবস্থা সচল করার জন্য কাজ করছে সরকার। বাতোতি থেকে কিসতওয়ার এবং সিনথান থেকে অনন্তনাগ পর্যন্ত সড়ক পুনরায় চালু হয়েছে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গত বৃহস্পতিবার ভারত-শাসিত কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি জারি করা না হলেও, ভারতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ব্রিটিশ সরকারের কাছে ভারত এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই পদক্ষেপকে তারা প্ররোচনামূলক বলেই মনে করছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য বলছে যে কাশ্মিরে হিংসার ঘটনা কমলেও অতীতের বহু ঘটনায় যেহেতু কারও বিচার বা শাস্তি হয়নি, তাই অনেকের ব্যাপক ক্ষোভ আছে এবং সেটা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।
ব্র্র্যাডফোর্ডের লিবারেল ডেমোক্রেট এমপি ডেভিড ওয়ার্ডের আনা যে প্রস্তাবের ওপর ওয়েস্টমিনিস্টারে ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা বিতর্কে অংশ নিয়েছেন তাতে সরাসরি বলা হয়েছে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়েও কাশ্মির সঙ্কটের ছায়া পড়ছে।
গত বুধবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাশ্মির পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং দুর্গতদের উদ্ধারাভিযানের বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়েছে।
শ্রীনগর থেকে উদ্ধারপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন, তারা আশপাশ থেকে সাহায্যের জন্য চিত্কার শুনেছেন, কিন্তু এক সময় চিত্কার থেমে গেছে। আটকা পড়া ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ওইসব মানুষের মৃত্যু হয়েছে বা তারা হতাশ হয়ে উদ্ধার পাবার আশা ছেড়ে দিয়ে ভাগ্যের হাতে নিজেদের ছেড়ে দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বন্যায় প্রায় সবকিছু হারিয়েছেন এমন পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। দুর্গতদের কাছে সময়মত পৌঁছাতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অনেক কাশ্মিরিই মনে করছে।
শ্রীনগরের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় পুরো নগরীজুড়ে জ্বালানি তেলের অভাব দেখা দিয়েছে। নগরীর সবগুলো পেট্রল পাম্প জ্বালানি শূন্য হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ইঅ/চৌফে/শ৩৭৪
