উচ্চ বেতনে চাকরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার দায়ে একটি ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকসহ চারজনকে জেল-জরিমানা করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জের ৬ নম্বর সড়কের ৫৪ নম্বর বাড়ির নিচতলায় বিটকো নামে একটি ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র্যাব-১ এর একটি দল। অভিযানে বিটকোর মালিক সজরুল ইসলাম তরিকুল, তার সহযোগী আমিরুল ইসলাম, মহিউদ্দিন রনি ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা প্রত্যেককে এক বছরের কারাদন্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদন্ড দেন।
অভিযানের সময় ঐ অফিসে ২০-২৫ জন চাকরিপ্রার্থী যুবক উপস্থিত ছিলেন। তাদের অনেকেই বিটকোতে টাকা দিয়ে উচ্চ বেতনে চাকরি পাওয়ার আশায় ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন। কারণ বিটকো গত ১০ সেপ্টেম্বর একটি পত্রিকায় ‘ইটালী প্রবাসী ম্যাডামের এপিএস নিয়োগের’ বিজ্ঞাপন দেয়। উক্ত বিজ্ঞাপন দেখে ঝালকাঠি থেকে নজরুল ইসলাম এবং জামালপুর থেকে মিজান মিয়া এসেছিলেন। অভিযানের সময় সিরাজগঞ্জের আব্দুল হাকিম দুই হাজার টাকা জমা দিয়ে রিসিট নিচ্ছিলেন। বিবিএ পাশ করে আব্দুল হাকিম এখানে এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে ১৮ হাজার ৫শ’ টাকা বেতনে চাকুরি করতে উক্ত টাকা জমা দেন। ভূক্তভোগী হাকিম র্যাবকে জানান, তিনি বিভিন্ন জব সাইটে চাকরির জন্য তার জীবন বৃত্তান্ত মেইল করেছেন। অভিযুক্তগণ সেখান থেকে তার তথ্য সংগ্রহ করে তাকে ই-মেইলের মাধ্যমে উক্ত চাকরির নিয়োগপত্র পাঠান এবং গতকাল সিকিউরিটি চার্জ বাবদ উক্ত অফিসে টাকা জমা দেয়ার জন্য জানান।
সরল বিশ্বাসে তিনি উক্ত টাকা জমা দেন এবং দশ দিন পর সাভার এলাকায় মোবাইল ফোন টাওয়ার সমূহ তদারকি বিষয়ে এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে চুড়ান্ত নিয়োগপত্র নিয়ে প্রশিক্ষণে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেন। বিটকো প্রতিষ্ঠানের মালিক অভিযুক্ত সজরুল স্বীকার করেন যে, উক্ত মেইলটি প্রতারণার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। উক্ত পদে উক্ত বেতনে তার পক্ষে চাকরি দেয়া সম্ভব নয়, শুধু সার্ভিস চার্জ নিয়ে পরবর্তীতে অন্যত্রে গিয়ে একই ধরণের প্রতারণা করতো এবং কিছু ব্যক্তিকে তারা মোটা বেতনের চাকরির কথা বলে কম বেতনের সিকিউরিটি গার্ডের চাকরিতে পাঠাতো। সেখানে টিকতে না পেরে কিছুদিন ডিউটির পর বেতন না নিয়েই চলে যায়। ফলে সিকিউরিটি মানির টাকা এবং যে কয়দিন ডিউটি করে তার টাকা তাদের লাভ হিসেবে থাকে। কিন্তু মধ্যখান থেকে প্রতারণার স্বীকার হচ্ছেন চাকরি প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ।
অভিযুক্ত সজরুল তাদের প্রতারনার কৌশল সম্পর্কে র্যাবের কাছেও ব্যাখ্যা করেন। মিডিয়ার কর্মী হিসাবে কয়েকজন লোক রয়েছে যারা বিভিন্ন পত্রিকায় বিমান বালা, ম্যাডাম, প্রবাসীর স্ত্রী, চিত্রনায়িকা, ধনাঢ্য ব্যক্তির এপিএস, দেহরক্ষী ইত্যাদি পদে নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়। তারা সিকিউরিটি মানি গ্রহণ করে। ট্রেনিংয়ের কথা বলে বিভিন্ন কোম্পানীর নাইট গার্ডের চাকরি দেয়। দীর্ঘ ট্রেনিং শেষ না হওয়ায় তারা এক পর্যায়ে বেতন ও সিকিউরিটি মানি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর করা হয়। অপর আসামী আমিরুল এই বাড়ির মালিকের কাছ থেকে নয় মাস অগে বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে এরূপ কাজ করাচ্ছিলেন। গত দুই মাস ধরে সজরুল এখানে কাজ করছিলেন। পূর্বে সুমন এবং পারভেজকে দিয়ে সে একাজ করিয়েছে। আসামী সজরুল জানায়, তিনি ইতোপূর্বে একইভাবে প্রতারিত হয়ে প্রতারণার কৌশল শিখে এখন নিজেই এসব কাজ করছেন। আসামী মহিউদ্দিন ও রফিকুল তাকে উক্ত প্রতারনার কাজে সহযোগিতা করতেন। উক্ত প্রতারক চারজন অত্যন্ত কৌশলী এবং ধূর্ত। তারা শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত এবং অশিক্ষিত এই তিন শ্রেণীর মানুষকেই ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে যেমন ই-মেইল, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন এবং মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে প্রতারণা করছিল।
ইঅ/চৌফে/শ৫০৫
