তারেক ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনায়ক: তরিকুল

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০০:০৪

শুক্রবার বিকালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ‘বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন তিনি বলেন, “সরকার গোটা দেশকে কারাগারে পরিণত করে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, এই অবস্থায় জনগনের পেছনে যাওয়ার রাস্তা নেই। আন্দোলন ছাড়া বিএনপির আর কোনো বিকল্প পথ নেই। সংগঠনকে শক্তিশালী করেই সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী করতে হবে।’’ এজন্য নেতা-কর্মীদের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি। আগামীতে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন ঘটাতে হবে বলে মন্তব্য করেন তরিকুল।

তরিকুল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে; গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করবে; দুর্নীতি দমন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করবে; কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। সব টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি বন্ধ হবে। আওয়ামী লীগ যা করেছে বিএনপি তা করবে না- এটা জনগণকে বলতে হবে। আমরা কখনো অন্যায়-অবিচারকে প্রশ্রয় দেব না- এই অঙ্গীকার আমাদের করতে হবে।
লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনার জবাবে তরিকুল বলেন, “তিনি লন্ডনে পড়াশোনা করছেন। গবেষণা করে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে মাঝে মধ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন। এতেই আওয়ামী লীগ ভয়ে অস্থির হয়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে তারা কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন।’’ তারেক প্রসঙ্গে তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, “তারেক রহমান হবেন দলের কাণ্ডারী, ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনায়ক। সেজন্য তার বিরুদ্ধে আওয়ামী দেশি-বিদেশি শক্তি মিলে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে। ১/১১ এর কুশীলবরা তাকে হত্যারও চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি।”
উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের সমালোচনা করে তরিকুল বলেন, “বিচার বিভাগ নিয়ে সরকারের কতো ভয়। তারা ফাঁসির আসামির মতো বিচার বিভাগের মাথায় যমটুপি পরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।” জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা করে সরকার সংবাদপত্রের সম্পাদকদের ‘সোনার খাঁচায় বন্দি’ করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমেদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, গণস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিয়াস করীম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম সরকার, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সৈয়দ আলমগীর, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল করিম, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক গাজী আবদুল হক, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, দৈনিক দিনকাল সম্পাদক রেজোয়ান সিদ্দিকী ও খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান বক্তব্য রাখেন।