জামায়াত-যোগ: তৃণমূলের ইমরানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১২:৩৪

বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি ও সহিংসতার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে অর্থের জোগানদাতা হিসেবে অভিযোগ ওঠা ভারতের তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য আহমেদ হাসান ইমরানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় শনিবার এক প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে উদ্ধৃত করে এ কথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আজ মন্ত্রণালয়ের একটি অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, আইন আইনের পথেই চলবে। এতে আমরা কোনও হস্তক্ষেপ করব না।
পত্রিকাটি জানায়, ইমরানের ‘সন্দেহজনক’ ভূমিকা নিয়ে রাজ্যের গোয়েন্দা, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এমনকী বাংলাদেশি গোয়েন্দা সংস্থাও যে সংশ্লিষ্ট মহলে নিয়মিত সতর্কবার্তা পাঠিয়ে এসেছে, তার প্রমাণ মিলেছে ইতিমধ্যেই। এ বার খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্তের কথা জানিয়ে দেয়ায় আরও এক দফা অস্বস্তি বাড়ল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের। রাজ্যের শাসক দল অবশ্য বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলে দাবি করেছে, ইমরান সংখ্যালঘু বলেই তাকে জড়িয়ে ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, দলীয় ওয়েবসাইটে আজ আনন্দবাজারকেও সরাসরি আক্রমণ করেছে তারা।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, 'স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ, রাজ্যসভার এক সাংসদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কাজের অভিযোগ উঠেছে। তা ছাড়া, সারদা কেলেঙ্কারির তদন্ত করছে সিবিআই, যারা কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ মন্ত্রক তথা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে। বস্তুত, সেই কারণেই রাজনাথ আজ বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া এড়িয়ে যান বলে মন্ত্রক-সূত্রের বক্তব্য।'
'তবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানিয়ে দিচ্ছেন, ইমরানের ভূমিকা কখনই সন্দেহের ঊর্ধ্বে ছিল না। দীর্ঘদিন তিনি নিষিদ্ধ মৌলবাদী সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া (সিমি)-র পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি ছিলেন। ২০০১ সালে সিমিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কেন্দ্র। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মনে করে, তত দিনে সিমির শিকড় গোটা দেশে ছড়িয়ে গিয়েছে। তলে তলে ভারত-বিরোধী কাজে এখনও সক্রিয় তারা। জঙ্গি কাজকর্মের জন্য টাকাও তুলছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের অনুমান, এই ধরনের কাজে ইমরানের মতো প্রাক্তন সিমি নেতারাও জড়িত।'
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন জানিয়েছে, এই সূত্রেই এসে পড়ছে ইমরানের সারদা-যোগ ও জামাত-যোগের প্রসঙ্গ। কেন্দ্রের গুরুতর জালিয়াতি তদন্ত সংস্থা বা এসএফআইও তাদের রিপোর্টে সম্প্রতি জানিয়েছে, সারদা গোষ্ঠীর টাকার একটি বড় অংশ আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ায় পাচার হয়ে গিয়েছে। হাওয়ালার মাধ্যমে বাংলাদেশ হয়ে ওই টাকা পাচার হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না কেন্দ্র। ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাচার হওয়া টাকার একটি অংশ তিনি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামির তহবিলে। সেই টাকা বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় বলে গোয়েন্দাদের দাবি। সূত্র বলছে, বাংলাদেশে গণহত্যার অপরাধে কাদের মোল্লার ফাঁসি ঘোষণা হওয়ার পর ধর্মতলায় বেশ কিছু সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছিল। জামায়াত ও সিমির মদতেই ওই কাজ হয়েছিল এবং তাতে ইমরানের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেই জানতে পেরেছে কেন্দ্র।
বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দিন অবশ্য আজ বলেছেন, “বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশন থেকে এই (ইমরান) সংক্রান্ত কোনও রিপোর্ট আমরা পাইনি। আজ বিকেল চারটে অবধি যোগাযোগে ছিলাম। তখনও পর্যন্ত রিপোর্ট আসেনি।”
আকবরউদ্দিনের কথার সূত্র ধরেই তৃণমূলের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তৃণমূলের টাকা বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে আনন্দবাজারে যা প্রকাশিত হয়েছে তা সর্ম্পূণ ভুল।” তবে কূটনীতিবিদদের একাংশের বক্তব্য, দু’দেশের সম্পর্ক জড়িত, এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে কখনওই নির্দিষ্ট করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলা হয় না। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে ভাবে জোর দিয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছেন, তাতেই বিষয়টি স্পষ্ট।