বাবুরহাটের বাণিজ্য

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১২:৪৩

বাড়ির কাছে আরশীনগরের মতো এই রাজধানী ঢাকার উত্তর-পূর্বে সদর দরোজার কাছে মাধবদির বাবুরহাটে ঘটে চলেছে অভাবনীয় বাণিজ্যের ধুন্ধুমার কাণ্ড। বাণিজ্য বসতে লক্ষ্মীর ‘হাট’ বসে এখানে। শুক্র থেকে রবিবার–এই তিনদিন সারাদেশের কাপড় বা বস্ত্র পাইকার-ব্যবসায়ীদের বিপণন-তীর্থ হয়ে ওঠে ব্রহ্মপুত্র পাড়ের এই মোকাম। তিনশ বছরে কিংবদন্তি হয়ে ওঠা এই বস্ত্র-হাটের অলিগলিতে আলো-আঁধারিতে টিনের ছাউনি দেয়া হাজার হাজার দোকানের বিস্ময়। হাজারো ক্রেতার  ভিড়ে পা ফেলা দায়। ব্যবসায়ীদের জন্য এখানে দিন-রাতের ফারাক থাকে না। নাওয়া-খাওয়া-ঘুমের ফুরসত মেলা দায়।
সপ্তাহের তিনদিনে বিক্রি-বাট্টা হয় অবিশ্বাস্য অংকে। এক রাতেই বিক্রি হয় প্রায় চারশ’ কোটি টাকা। তিনদিনে যার পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার ওপর। সেই হিসাব মেলাতে মেলাতেই ফিরে আসে নতুন সপ্তাহ। নিশুতি রাতের সুসুপ্তি যখন চরাচরজুড়ে নিথর-নিস্তব্ধতা অধিকার করে নেয় তখনো এ হাটের চারদিকে হাঁক-ডাক। দরদামের কোলাহল, কুলিদের ব্যস্ততা। দোকানের সামনে ভ্যানের দীর্ঘ সারি। হাটের গা-ঘেঁসে বড় সড়কে ট্রাকের বহর, শত শত ট্রাক। কাপড়ের বিশাল গাঁট উঠছে, নামছে। লোড নিয়ে ছুটে চলেছে দূর-অদূর গন্তব্যে।
সেই ১৭১৭ সাল থেকে আজ অব্দি ব্যবসায়ের কৌলিণ্য এই হাটকে ইতিমধ্যে ‘প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার’ পরিচিতি দিয়েছে ‘উইকিপিডিয়া’র পাতায়। বাবুরহাট মানে থান কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে রঙের গন্ধ। বেশি ক্রেতা, বেশি বিক্রি। সন্নিহিত তল্লাটের তাঁতকল থেকে তৈরি হয়ে কাপড় আসছে আর বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরে আর কোন দৃশ্য নেই। একসময় কেবল শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা ও চাদরের জন্য যে বাবুরহাটের সুখ্যাতি ছিল তার বর্ণাঢ্য এখন প্রশস্ত হয়েছে। বর্তমানে এই হাটটি বাংলাদেশের সবচে’বড় তাঁতবস্ত্র বিপণন কেন্দ । রুমাল থেকে জামদানি শাড়ি, মাথার টুপি থেকে পাঞ্জাবি সব মেলে এই হাটে। ছাপা কাপড়, থান কাপড়, সুতি শাড়ি, থ্রি-পিস, ওড়না, পপলিন, ভয়েল, বর্ণিল দেশীয় আরামদায়ক কাপড়, শার্ট-প্যান্ট, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, গামছা, তোয়ালে কি নেই এখানে! রমজানের ঈদে বাড়তি যোগ হয় জাকাতের কাপড়।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, বগুড়া, জামালপুর, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জসহ দেশের সব প্রান্তের পাইকারি ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর বাবুর হাট। দূর-দূরান্ত থেকে আগত ব্যবসায়ীদের কোন টোল জমা, খাজনা বা চাঁদা দিতে হয় না। এখানকার ঘর মালিক সমিতির সদস্যরা সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দেন। টোল-খাজনা প্রথা না থাকায় বাবুর হাটই ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দ। এছাড়া এক হাটে সব ধরনের কাপড় পাওয়া যায়, যোগাযোগব্যবস্থাও ভালো।
বাবুরহাটকে কেন্দ  করে নরসিংদী ও তার সন্নিহিত নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর জেলায় গড়ে উঠেছে হাজার হাজার তাঁতকল। তাঁতশিল্পকে ঘিরে জেলার বিভিন্নস্থানে গড়ে উঠেছে শতাধিক সহায়ক শিল্প প্রতিষ্ঠান। এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে লাখ লাখ বেকার মানুষের। এতসবকিছুর পরও অবহেলার তিমিরে ডুবে আছে বাবুর হাট। সরকার আসে, সরকার যায়- এই হাটে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে না। রাস্তাঘাট এখনও কাঁচা । নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। একটু বৃষ্টি হলেই জল-কাদায় একাকার। মাল যানবাহনে লোড-আনলোড করতে খুবই অসুবিধা হয়।
‘প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার’ হয়ে ওঠার কথা
সামন্ত যুগে জমিদার হলধর সাহা’র বাবুরহাট সেই আঠারো শতকের পর থেকে ভাঙ্গা-গড়া করতে করতে, আয়তনের প্রসার ঘটাতে ঘটাতে রূপ-জৌলুসহীন অবয়বে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। ব্র????হ্মপুত্র নদের ধারে পানশী ভিড়িয়ে জমিদার বাবুরা শখ করে আসতেন এই হাটে সওদা করতে। সাথে থাকতো পাইক-পেয়াদা। দূর-দূরান্ত থেকে পালতোলা নৌকায় চেপে আসতেন সওদাগরেরা। কালের যাত্রায় এমন কত হাট হারিয়ে গেছে, তার ইয়াত্তা নেই। কোন কোনটি ইতিহাসের পাতায় জীবন পেয়েছে। তবে বাবুরহাটের ইতিহাস অভূতপূর্ব। তিনশ’ বছরের এক কিংবদন্তি মোকামের নাম এই বাবুরহাট। দেশের সবচে’বড় পাইকারি কাপড়ের মোকাম। জমিদার হলধর সাহা ওরফে কালুসাহার বড় প্রিয় ছিল তাঁতের কাপড়। তাই তিনি তাঁতীদের প্রতিষ্ঠিত করতে লেগে যান। তাঁতীরাই বাবুরহাটে তাদের তৈরি তাঁতের কাপড় বিক্রি করা শুরু করেন।
তারও আগে ১৭১৭ সালে বাংলার প্রাদেশিক শাসনকর্তা নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁর আমলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচরে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠে বাবুরহাট বাজার। তবে এত আগে বাজারটি গড়ে উঠলেও ভালভাবে বিস্তৃতি ঘটে ১৮৫০ সালে। ১৮ শতকের শেষ পর্যায়ে বর্তমান মাধবদীতে বাবুরহাটের পার্শ্ববর্তী উত্তর দিকে আনন্দী গ্রামে কাজীরহাট নামে একটি হাট বসতো বিকাল থেকে রাত্রি অব্দি। এই হাটে তখনকার দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রি-বাট্টা হতো। এই হাট কখন, কবে, কীভাবে, বিলুপ্ত হয় তা জানা যায়নি। তবে ১৯ শতকের প্রথম দিকে মাধবদীতে স্থানীয় জমিদারের পৃষ্টপোষকতায়, বলতে গেলে তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় প্রতি সোমবার হাট জমতে শুরু করে। জমিদার বাবুরা হাটের পৃষ্ঠপোষক থাকার কারণে স্থানীয় লোকজনের কাছে এই হাটটি বাবুর হাট হিসেবে পরিচিতি পায়।  মাধবদী এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রাম যেমন, আলগী, বিরামপুর, আনন্দীতে কিছু লোক গর্ত তাঁতের মাধ্যমে কাপড় উত্পাদন করতো এবং মাধবদীর সাপ্তাহিক হাটে উত্পাদিত কাপড় বিক্রির জন্য নিয়ে আসতো। এই এলাকা এবং এই হাটের কাপড়ের সুখ্যাতি ক্রমান্বয়ে সারা উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। স্বদেশী আন্দোলনের সময় মোহিন দাস গান্ধীর ডাকে যখন বিদেশি বস্ত্র বর্জন শুরু হয় তখন যোগীদের পাশাপাশি অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ কাপড় বুননকাজে উত্সাহী হয়ে ওঠেন। এই সময় এলাকার কিছু সজ্জন ব্যক্তি নিজস্ব প্রচেষ্টা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে জাপানি যান্ত্রিক বস্ত্রকলের প্রচলন শুরু করে। তারপর থেকেই বস্ত্র উত্পাদনে আসে গতিশীলতা, ফলে বাবুরহাটে প্রচুর কাপড় আমদানি ও রপ্তানি শুরু হয়। কালক্রমে বাবুরহাটের সুখ্যাতি আঞ্চলিক গণ্ডি পেরিয়ে উপমহাদেশীয় হয়ে ওঠে। ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের বস্ত্র ব্যবসায়ীরা নৌপথে বাবুর হাটের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়েন। মাড়োয়ারী ব্যবসায়ীরা পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম প্রভৃতি অঞ্চলে কাপড় চালান দিতে থাকেন। তারা বাবুরহাট থেকে কাপড় কিনে বিশ্বে মাধবদীর কাপড়ের পরিচিতি ও সুখ্যাতি ছড়িয়ে দেন। এধারা চলতে থাকে ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পর্যন্ত। ১৯৬৫ সালের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের কারণে এবং ক্রমে নৌপথ ব্যবহার সংকুচিত  হয়ে পড়ার ফলে ভারতীয় বস্ত্রব্যবসায়ীরা বাবুরহাটে সাথে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলেন। বর্তমানে ১০ একরেরও বেশি আয়তনজুড়ে গড়ে উঠা এই ঐতিহ্যবাহী হাটে রয়েছে ছোট-বড় সাত হাজারের বেশি পাইকারি কাপড়ের দোকান।
সপ্তাহে হাজার কোটি টাকার বিপণন
রাজধানীর কেন্দ  হতে ৪০ কিলোমিটার দূরে মাধবদীর শেখেরচরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে ডানে নামলেই টিনের ছাউনি দেয়া ছোট-বড় ঘরের সারি। একটু উঁচু জায়গা। দোকানগুলোর কোন কোনটির মেঝেটা পাকা। চারদিকে জমজমাট মানুষের ভীড়, ঠেলাঠেলি। কথার অবিরল নিনাদ। কারো দিকে কারো ফিরে তাকানোর সময় নেই, শশব্যস্ততা। এই মৌসুমে দিনের বেলাতেও আলো-আঁধারিতে জল-কাদা মাড়িয়ে চলতে হয়। হাট প্রাঙ্গণে আশ্চর্য পরিবেশ। লোকজন লাইন ধরে কাপড়ের স্তূপ নিয়ে বসে আছে। কেউ বা পসার নিয়ে সুরম্য দোকানে বসা। স্তূপ তাদেরও সামনে। আর তাঁতীরা দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য দুই হাতে শাড়ি-লুঙ্গি নিয়ে উঁচু করে ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সমানে চলছে দামাদামি ও বিক্রয়।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার বিকাল পর্যন্ত তিনদিন বিরতিহীন বেচাকেনা চলে। তারপর এই হাটে কাক-পক্ষীও থাকে না। কথা হয় রাজশাহী থেকে আসা মাসুদুর রহমান নামে এক পাইকারি ক্রেতার সাথে। বললেনঃ এই হাট অন্যরকম দাম তুলনামূলক কম। সপ্তাহে হাজার কোটি টাকার উপরে এ হাটে লেনদেন হয়। আমরা এত দূর-দূরান্ত থেকে এই হাটে আসি একটু ভাল কাপড় কেনার জন্য। আমাদের হাটবারের আগের দিন চলে আসতে হয়। এখানে ভাল থাকা কিংবা খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। তবে এখানকার সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে এখানে কোন খাজনা দিতে হয় না। এছাড়া এখানে লাখ লাখ টাকা হাতে নিয়ে ঘুরলেও কোন সমস্যা হয় না। শেখেরচর বাবুরহাট বাজার বণিক সমিতির নেতা হাজী আবুল কাসেম জানান, সপ্তাহে আনুমানিক এক থেকে দুই হাজার কোটি টাকার কাপড় বেচাকেনা হয় এখানে। এ বছর গতবারের তুলনায় সুতার দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকার কারণে কাপড়ের দাম বাড়েনি। আর তাতেই খুশি ক্রেতারা।
খাজনা নেই বেচাকেনায়
দেশের প্রায় প্রতিটি হাট-বাজারে বিকিকিনির ক্ষেত্রে টোল বা খাজনা প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে কাপড়ের সবচাইতে বড় এই পাইকারি হাটে ১৫ বছর ধরে দূর-দূরান্ত থেকে আগত ব্যবসায়ীদের কোনো টোল, জমা, খাজনা বা চাঁদা দিতে হয় না। বাবুরহাট বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারের কাছ থেকে প্রতিবছর ২৫-৩০ লাখ টাকায় হাটটি ইজারা নেয়া হয়। তবে ক্রেতা বা বিক্রেতার কাছ থেকে কোনোরকম টোল আদায় করা হয় না। বাজার ইজারা বাবদ সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব, এখানকার ঘর মালিক সমিতির সদস্যরা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে দেন। এটা পাইকার টানার একটা কৌশল। দূরের পাইকাররা এতে খুব খুশি, যা বাংলাদেশে পাইকারি হাটে বিরল ঘটনা। যশোরের রফিকুল ইসলাম কাপড় কিনতে এসেছেন বাবুরহাটে। তার সঙ্গে কথা হয় ‘রকি-টেক্স শাড়ি ঘরে’। তিনি জানালেন, এ হাটে কেনাকাটায় অন্য হাটের তুলনায় সুবিধা একটু বেশি, ঝামেলা কম। টোল-চাঁদা দিতে হয় না। সব ধরনের কাপড় পাওয়া যায়। আর যোগাযোগ ব্যবস্থাটা ভালো।
হাট ঘিরে কর্মসংস্থান কর্মমুখর পরিবেশ
বাবুরহাটকে ঘিরে গোটা নরসিংদী জেলা এবং নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জে গড়ে উঠেছে বেশুমার তাঁতকল। আবার এই তাঁতশিল্পকে কেন্দ  করে স্থানে স্থানে গড়ে উঠেছে কয়েকশ সহায়ক শিল্প প্রতিষ্ঠান। তাঁতসমৃদ্ধ মাধবদী, চৌয়ালা, ভগীরথপুরসহ এই এলাকার তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের ব্যস্ততা দেখলে বিস্মিত হতে হয়। হাজার হাজার দোকানে স্থানীয় তাঁতকল থেকে উত্পাদিত কাপড় আসছে। এই কল-কারখানায় কাজ করছেন কয়েক লক্ষ নারী-পুরুষ। এই এলাকায় কর্মহীন নেই কেউ। কোন না কোন কাজে ব্যাপৃত আছেন। হাট থেকে কেনা কাপড় দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশাপাশি আবাসিক এলাকার সড়কেও মালবাহী ট্রাকের জট। বাবুরহাটের পাশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে শত শত কাপড়ের গাঁট। মহাসড়কেই অপেক্ষমাণ ট্রাকে এসব গাঁট তোলা হচ্ছে। ট্রাকে কাপড়ের গাঁট তোলার কাজ করে শত শত কুলি। তাদেরই একজন অসীত কুমার  জানালো:ট্রাকে কাপড়ের গাঁট তুলে দিনে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা রোজগার হয়। সামনে কোরবানীর ঈদ এবং দুর্গা পূজার কারণে কাজের চাপ বেশি। প্রতিদিন রোজগার হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। হাটে আছে আরো অসংখ্য কায়িক শ্রমিক।
সমস্যার তিমিরে, শত বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া
এত খ্যাতির গর্ব থাকলেও বাবুরহাটের ভাগ্যে উন্নয়নের শিকে ছেঁড়ে না। বহু সমস্যার আবর্তে সেই তিমিরেই পড়ে আছে। শত বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া । অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপ্রশস্ত গলি, শৌচাগারের অভাব, স্থান সংকুলান না হওয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপরে গাড়ি রেখে মালামাল উঠা-নামার কাজসহ অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এসব দুর্ভোগ লাঘবে দীর্ঘদিনেও সরকারিভাবে নেয়া হয়নি তেমন কোন উদ্যোগ। ব্যবসায়ীরা জানান, গত পাঁচ বছরে ব্যক্তি উদ্যোগে অপরিকল্পিতভাবে বাজারটিতে গড়ে উঠেছে বেশকিছু কয়েকতলা ভবনের বিপণিবিতান। ফলে ঘিঞ্জি পরিবেশ আরো ঘন হয়েছে। বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় ভিতরে তীব্র যানজট। মালামাল উঠা-নামা করার নির্দিষ্ট  কোন জায়গা না থাকায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পাইকারি ক্রেতারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপরে গাড়ি রেখে মাল উঠা-নামার কাজ করেন। এতে মহাসড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। এতবড় কাপড়ের হাটের জন্য অগ্নিনির্বাপণের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা সবসময় থাকেন অগ্নিকাণ্ডের আতংকে। ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ বলেন, এই হাটে সমস্যার শুরু আছে, শেষ নেই। সবসময়ই অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে থাকি। কোনভাবে যদি দুর্ঘটনাবশত আগুন লাগে তাহলে নেভানোর কোন রাস্তা নেই। কারণ হাটের ভিতরে যেখানে চলাচলকারীদের হাঁটার সুযোগ নেই, সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি কিভাবে ঢুকবে? কোন পরিকল্পনা ছাড়াই দোকানগুলো গড়ে ওঠায় এসব সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শেখেরচর-বাবুরহাট বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার আসে সরকার যায়। গালভরা শুধু প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই মেলে না। কোন সরকার-ই প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার খ্যাত এই বাজারের উন্নয়নে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।