তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় বিশ্ব বাঘ গণনা সম্মেলন-২০১৪ আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও হোটেলে সকাল ১০টায় এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে বাঘ অধ্যুষিত ১৩ টি দেশের প্রতিনিধিসহ মোট ২০টি দেশের ১৪০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘ গণনা সম্মেলন-২০১৪ এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজিবুর রহমান। তিনি জানান, এবারের সম্মেলনের মুল উদ্দেশ্য হলো গ্লোবাল টাইগার রিকভারি প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের হালনাগাদ অগ্রগতি জানা, বাঘ সংরক্ষনের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় সম্পদের যোগান ও চাহিদার পার্থক্য নিরূপন এবং বাঘ সংরক্ষনে প্রয়োজনীয় অর্থ যোগানের জন্য বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন উল্লেখযোগ্য। এ সব বিষয়ে একটি ঢাকা ঘোষনা তৈরি করা হবে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়। পরিবেশ সচিব বলেন, আগামী ২০২২ সালের মধ্যে পৃথিবিতে বাঘর সংখ্যা দ্বিগুন করার জন্য সেন্ট পিটার্সবার্গ ঘোষণা গ্রহণ করা হয়। ২০০৪ সালে পাগমার্ক পদ্ধতিতে সুন্দরবনে ৪৪০টি বাঘ আছে বলে হিসাব করা হয়েছিলো। কিন্তু সুন্দরবনের ৬০১৭ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুন করার সুযোগ না থাকায় ২০২২ সালের মধ্যে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা স্থিতিশীল রাখার পক্ষে বিশ্লেষকরা মত প্রদান করেন। এ বিষয়টি বাংলাদেশের ন্যাশনাল টাইগার রিকভারি প্রোগ্রামের অন্তর্ভূূক্ত করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ সচিব জানান, রামপাল তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে তা বাঘের আবাসস্থলের জন্য হুমকি হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের সম্মেলন আয়োজনে সহযোগিতা করছে গ্লোবাল টাইগার ইনিশিয়েটিভ, গ্লোবাল টাইগার ফোরাম এবং বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য দাতা সংস্থাগুলো। এসময় প্রধান বন সংরক্ষক মো: ইউনুছ আলী, গ্লোবাল টাইগার ইনিশিয়েটিভ এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. এন্ড্রে ভি. কুশলিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সম্মেলনের প্রস্তুতি দেখতে বিকেলে হোটেল সোনারগাঁয়ে যান পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। এ সময় তিনি সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজখবর নেন।
ইঅ/চৌফে/শ২৮৭
