এক যুগ্ম ও চার সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত কাল

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৯:০৬
 
ছয়জন সচিবের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নেমেছিল দুদক। কিন্তু সেই অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। মিলেছে এসব কর্মকর্তার পাঁচজনই ভুলতথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়েছেন। যা সরকারি কর্মচারী শৃংখলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী অসাদাচরণ।
দুর্নীতি দমন কমিশন তাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অসদাচরনের দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে এসব কর্মকর্তার সনদ বাতিল করতে অনুশাসন দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রবিবার জাতীয মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকার) বৈঠক ডাকা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জামুকার সভাপতি। তিনি জানান বৈঠকেই  পাঁচ কর্মকর্তার সনদ বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সূত্রমতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হতে পারে।
 যেসব পাঁচজন সচিব ও একজন যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে আর্থিকসকেলেঙ্কারির অভিযোগ তদন্তে নেমেছিল তারা হলেন,  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মোল্লা ওযাহিদুজ্জামান (বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান) স্বাস্থ্য সচিব এ এন এম নিয়াজউদ্দিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যামন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষযক মন্ত্রণালযলয়ের সাবেক সচিব (ওএসডি) কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব এ কে এম আমির হোসেন, এবং মুক্তিযুদ্ধবিষযক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ওএসডি) আবুল কাসেম তালুকদার। এরমধ্যে কারো বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির কোন অভিযোগ পায়নি দুধক তবে পাঁজনের সনদ ভূয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান, দুদক কমিশনার শাহাবুদ্দিন চুপপু। তিনি জানান ড. শওকতের মুক্তিযোদ্ধার সনদ সঠিক। তাই তাকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
এ কর্মকর্তাদের কেউই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অবসরের বয়স বাড়ানোর সুবিধা নেননি। তাই তাদেরকে শুধু ভুল তথ্য দিয়ে সনদ জোগাড়ের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে।
সরকারি কর্মচারী ( শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধি মালা অনুযায়ী লঘু ও গুরুদণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। এর সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরিচ্যুতি। লঘু দণ্ডের মধ্যে পদাবনতি এবং বার্ষিক প্রনোদনা স্থগিত রাখার বিধান রয়েছে। তবে এসব শাস্তি কার্যকর করা পূর্বে বিভাগীয় মামলা দায়ের শুনানী ইত্যাদি প্রক্রিয়া রয়েছে। এ পর্যন্ত ১৮২ জন সরকারি কর্মকর্তার সনদ বাতিল এবং তাদের মধ্যে যারা আর্থিক সুবধা নিয়েছেন তাদের অবসরত্তোর (পিআরএল) আর্থিক সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।