মানুষ সংলাপের জন্য বসে থাকবে না: খালেদা জিয়া

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৯:২৯
 
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকার-কাঠামো নিয়ে সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন,মানুষ সংলাপের জন্য অনির্দিষ্টকাল বসে থাকবে না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ওয়াদা নিশ্চয়ই আপনারা ভুলে যাননি। তিনি গত ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচন বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এরপরেও আলোচনা চলবে এবং একটি সমাঝোতা হলে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন নির্বাচন করা যাবে। এখন সেই অঙ্গীকার ভুলে গিয়ে তিনি আলোচনা ও সংলাপে বসতে অস্বীকার করছেন। আমরা এখনো এবং আমি আজ আবারো তাদেরকে আলোচনা ও সংলাপের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। তা না হলে রাজপথে উত্তাল আন্দোলনে যাবে বিএনপি।
শনিবার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) এর  ‘উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র’ শীর্ষক মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়। চিত্রপ্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে এ সমাবেশ উদ্বোধন করেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ ন হ আখতার হোসেন।
খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি সংলাপের জন্য অনির্দিষ্টকাল বসে থাকবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। আমরা এখন আমাদের সংগঠনগুলোকে প্রস্তুত ও বিন্যস্ত করছি। অন্যান্য সমাজশক্তিগুলোকে সমন্বিত করছি। আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি। আমাদের বক্তব্য তুলে ধরছি। তাদের মতামত শুনছি। এই পর্বের পর সংলাপের উদ্যোগ না নিলে জনগণের দাবি আদায়ে চাপ প্রয়োগের জন্য দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শিগগিরই আমাদেরকে রাজপথের আন্দোলনে নামতে হবে। তিনি বলেন, আমরা একটি সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা দেশে অশান্তি, সংঘাত, অস্থিরতা এবং রাজপথের উত্তাল আন্দোলনে সহসা যেতে চাই না। তবে সব পথ বন্ধ করে দিলে রাজপথ বেছে নেয়া ছাড়া এদেশের জনগণের সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকেনা।
দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা বিরাজ করছে এমন অভিযোগ তুলে খালেদা জিয়া বলেন, এই অস্বাভাবিক অবস্থা চলতে পারে না। সংবিধান, রাষ্ট্র, জাতীয় ইতিহাস, জনগণের জীবন-জীবীকা ও অধিকার আজ তছনছ করা হচ্ছে। যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী এ দেশের মানুষ তা মেনে নিতে পারে না। এ অবস্থা বেশি দিন চলতে থাকলে শুধু বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাই হুমকির মুখে পড়বে। একটি জনপ্রতিনিধিত্বহীন সরকার যে-ভাবে স্বেচ্ছাচারী শাসন চালিয়ে যাচ্ছে, যে-ভাবে গণতান্ত্রিক ও উদারনৈতিক রাজনৈতিক ধারাকে স্তব্ধ করে দিতে চাইছে, তাতে কেবল উগ্রবাদী ও চরমপন্থী শক্তির উত্থান ও বিস্তারের আশংকাই বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ আরো অন্ধকারে ছেয়ে যাবে।
দেশের মানুষকে বাঁচাতে আন্দোলন দরকার উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ছাত্রলীগ যেভাবে সন্ত্রাস বিশৃঙ্খলা আর অরাজকতা করছে মন্ত্রীরা যে ভাবে লুটপাট করছে। এর হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, দেশকে এবং দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য এখন আন্দোলন দরকার। জনগণকে আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,আসুন দেশকে বাচাই। সন্ত্রাস জুলুম, নির্যাতন -গুমের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করি। জালেম অত্যাচারী সরকারের হাত থেকে দেশকে মানুষকে মুক্ত করি।
ড.মাহবুব উল্লাহর উপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের নির্দেশেই মাহবুব উল্লাহর উপর হামলা হয়েছে। আজকে দেশের কোনো মানুষ নিরাপদ নয়। এই হামলার দায় শেখ হাসিনাকে নিতে হবে। না হলে গদি ছাড়তে হবে। এভাবে হামলা মামলা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। তিনি অবিলম্বের ড.মাহবুব উল্লাহর উপর হামলাকারীদের বিচার দাবি করেন।
 সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমীন গাজী, ড্যাব সদস্য সচিব ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মোস্তাহিদুর রহমান, প্রকৌশলী মহসিন খান, সৈয়দ মুনসেক আলী, রিয়াজুল ইসলাম রাজু, খালিদ হোসেন চৌধুরী, গোলাম মওলা, মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, মনিরুজ্জামান, শফিকুল ইসলাম খান, একেএম জহুরুল হক প্রমুখ।