বালু সন্ত্রাসীদের হাতে দুদিন অবরুদ্ধ ১০ গ্রামের মানুষ

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০২:২৪

বালু সন্ত্রাসীরা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ১০ গ্রামের মানুষকে দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেঘনা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকের ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার প্রতিবাদ করায় তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে উপজেলা সদরে তাঁদের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি বন্ধ করে দেয় বালু সন্ত্রাসীরা।

উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামের কৃষক নুর হোসেন বলেন, কয়েক মাস ধরে ব্রহ্মপুত্র নদ ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী শম্ভুপুরা, দড়িগাঁও ফতেপুর, ফরদী, এলাহীনগর, গোবিন্দপুর, নয়াগাঁও, গজারিয়ারপাড়সহ ১০ গ্রামের কৃষকের কয়েক শ বিঘা ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছেন বালু ব্যবসায়ীরা। এঁদের নেতৃত্ব ও অশ্রয় দিচ্ছেন বন্দর উপজেলার আওয়ামী লীগ-সমর্থক প্রভাবশালী চান মিয়া, শম্ভুপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিক মোল্লা, যুবলীগের সদস্য মনির হোসেনসহ ৩০ জন নেতা। গত শুক্রবার কৃষকেরা একজোট হয়ে বাধা দিলে বালু সন্ত্রাসীরা তাঁদের পিটিয়ে আহত করে। তারপর গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়।
ওসি রিজাউল হক বলেন, বালু তোলায় জড়িত ব্যক্তিরা গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করলেও তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাই গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা রেকর্ড হয়নি।
গ্রামের কয়েকজন জানান, জমি রক্ষায় আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ায় শম্ভুপুরা-মোগড়াপাড়া সড়কের নবীনগর এলাকা দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সন্ত্রাসীরা। আওয়ামী লীগের নেতা সিদ্দিক মোল্লার ভাতিজা টিটু মোল্লার নেতৃত্বে একটি দল ওই অংশ দিয়ে কোনো যানই চলাচল করতে দিচ্ছেন না। অথচ ওই ১০ গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য উপজেলা সদর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পৌঁছার একমাত্র সড়ক এটি। ফলে গ্রামগুলোর কয়েক হাজার মানুষ দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার দুপুরে দেখা গেছে, সড়কটিতে কোনো যানবাহনই চলাচল করছে না।
গ্রামবাসীকে মারধরের ঘটনায় গতকাল প্রথম আলোতে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। গতকাল দুপুরেই ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু নাসের ভূঁইয়া ও সোনারগাঁ থানার ওসি রিজাউল হক। দুই কর্মকর্তাকে পেয়ে গ্রামের অনেক বাসিন্দাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা বালু সন্ত্রাসীদের কবল থেকে তাঁদের বাঁচানোর আকুতি জানান।
আওয়ামী লীগের নেতা সিদ্দিক মোল্লা বলেন, ‘আমরা নদীতে বালুমহাল ইজারা নিয়েই মাটি কাটছি। কৃষকদের ওপর হামলা ও তাঁদের জমির মাটি কাটার সঙ্গে আমরা জড়িত নই। গ্রামবাসীদের চলাচলের রাস্তা আটকানোর বিষয়টিও জানি না।’
ইউএনও আবু নাসের বলেন, নদীতে বালুমহালের ইজারা নিয়ে একটি চক্র কৃষকদের ফসলি জমির মাটি কাটছে। তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।