ছয় সচিবের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে নেমেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। কিন্তু সেই অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। তবে প্রমাণ মিলেছে এদের মধ্যে পাঁচজনই ভুল তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন। যা সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণ। তাই দুদক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করতে বলেছে। সে অনুয়ায়ী ওই পাঁচ সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে আজ।
জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আজ রবিবার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) বৈঠক ডাকা হয়েছে। জামুকার সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানান, আজকের বৈঠকেই ওই পাঁচ কর্মকর্তার সনদ বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সূত্র মতে, আজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সনদ বাতিলের সিদ্ধান্তও হতে পারে।
যে ছয় সচিবের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে তদন্ত হয়েছে তারা হলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান (বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান), স্বাস্থ্য সচিব এ এন এম নিয়াজউদ্দিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব (ওএসডি) কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকী, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব এ কে এম আমির হোসেন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (ওএসডি) আবুল কাসেম তালুকদার।
এ প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার শাহাবুদ্দিন চুপপু বলেন, এদের কারো বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির কোন প্রমাণ পায়নি দুদক, তবে পাঁচজনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুধু ড. শওকতের সনদ সঠিক। তাই তাকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
দুদকের চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘দুদক তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেছে। এখন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা শাখা বিষয়টি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে নথি উপস্থাপন করবে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তথা এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে যাবে। তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে প্রত্যেকের আত্মপক্ষ সমর্থন বা বক্তব্য দেয়ার সুযোগ থাকবে।’
প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কেউই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অবসরের বয়স বাড়ানোর সুবিধা নেননি। তাই তাদের শুধুমাত্র ভুল তথ্য দিয়ে সনদ জোগাড়ের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী লঘু ও গুরুদণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। এর সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরিচ্যুতি। লঘু দণ্ডের মধ্যে পদাবনতি এবং বার্ষিক প্রণোদনা স্থগিত রাখার বিধান রয়েছে। তবে এসব শাস্তি কার্যকর করার পূর্বে বিভাগীয় মামলা দায়ের, শুনানি ইত্যাদি প্রক্রিয়া রয়েছে।
এ পর্যন্ত ১৮২ জন সরকারি কর্মকর্তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে যারা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন তাদের অবসরোত্তর (পিআরএল) আর্থিক সুবিধাও বাতিল করা হয়েছে।
