ঈদ-পূজার নিরাপত্তায় পুলিশের প্রস্তুতি

২৫ সেপ্টেম্বর থেকে মহাসড়কে আইপি ক্যামেরা: ডিআইজি হাইওয়ে

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৯:৩২
 
মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ ও যানজট নিরসনে ব্যবহার করা হচ্ছে আইপি ক্যামেরা (ইন্টারনেট প্রটোকল ক্যামেরা)। যা দেশের তিন মহাসসড়কের ৪০ পয়েন্টে বসানোর কাজ চলছে। আর প্রতিটি পয়েন্টে থাকছে ২ থেকে ৩টি করে আইপি ক্যামেরা। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যামেরাগুলোর কাযক্রম শুরু হবে। এর ফলে পুলিশ সদর দফতরে বসেই মহাসড়কের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা। অপর দিকে আসন্ন কোরবানির হাটে চাঁদাবাজি বন্ধে রাজধানীর প্রবেশ মুখে ১২টি পয়েন্টে বসানো হচ্ছে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা। এ সব ক্যামেরা মাধ্যমে মনিটরিং করা হবে হাট ও গরুর ট্রাকের চাঁদাবাজি।
পুলিশ সদর দফর সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদুল আযহা ও দুর্গাপূজার সময় যাতে মানুষ নিশ্চিন্তে  ঘরে  ফিরতে পারে, সে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। অপর দিকে মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও যানজটসহ অন্যান্য অবস্থা কেন্দ্রীয় ভাবে মনিটরিং করার জন্যই বাসানো হচ্ছে আইপি ক্যামেরা (যা নিজস্ব নেটওয়ার্ক ইন্টারফেসের সাহায্যে সরাসিরি  নেওয়ার্কে সংযুক্ত হবে)। আইপি ক্যামেরার বসানোর কাজ চলছে   ঢাকা-কুমিল্লা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৮টি পয়েন্টে। ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের ২০টি, গাজীপুরের ৪টি, আশুলিয়ার বাইপাইল, নবীনগর, আমিন বাজার, নারায়ণগঞ্জের তিন পয়েন্ট, কাঁচপুর, ঢাকা-সিলেট সড়কের গোলাকান্দাইলে।
অপর দিকে কোরবানির হাটে চাঁদাবাজি বন্ধে রাজধানীর উত্তরা, যাত্রাবাড়ি, আমিনবাজার, গাবতলীর ১২টি পয়েন্টে বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। এ সব সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে চাঁবাবাজদের চিহ্নিত ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে। এর ফলে গরুবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা নেয়া ও ব্যাপারীদের টাকা ছিনতাইও নিয়ন্ত্রন করাও  সহজ হবে।
হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আছাদুজ্জামান বলেন, মহাসড়কে যানজট,চাঁদাবাজিসহ অনান্য অব্যবস্থা সরসিরি মনিটংিয়ের জন্যই মহাসড়কে বেশ গুরুত্বপুর্ন পয়েন্ট গুলোতে বসানো হচ্ছে আইপি ক্যামেরা। আশা করি আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে এ ক্যামেরার কার্যক্রম শুরু হবে। ক্যামেরাগুলোর কার্যক্রম শুরু হলে ঢাকায় বসেই মহাসড়কের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।  আর সমস্যা পর্যবেক্ষন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া সহজতর হবে।
তিনি আরো বলেন, এ বছর ঈদুল আযহা ও দুর্গাপূজা একই সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে মহাসড়কে ঘরে ফেরা মানুষের চাপাও বেশি থাকবে। তা ছাড়া পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বড় অংশ দায়িত্বপালন করবে। অন্যান্য বারের মতো মহাসগড়ক গুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্গলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন সম্ভব হবে না। এ প্রেক্ষাপটে আইপি ক্যামেরার পাশাপাশি এ বছর মহাসড়কে যানজট নিরসনে স্বেচ্ছাসেবক মোতোয়েন করার জন্য জেলা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে যানজট, যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় অন্যান্য বারের অভিজ্ঞতার আলোকে এ বছর বেশ কিছু নতুন নতুন  পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বসানো হচ্ছে মির্জাপুর, চন্দ্রা, গাজীপুর চৌরাস্তা, সাভার, বাইপাইল, কাঁচপুর,ভুলতা,গাউছিয়া, দাউদকান্দি, পদুয়াবাজারসহ ১৩টি কন্ট্রাল রুম । এ কন্ট্রোল রুম থেকে মহাসড়ক মনিটরিং করা হবে। অপর দিকে মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন চলতে দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মহাসড়কের পাশে গরুর হাটও বসতে দেয়া হবে না।
বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক রোস্তম আলী খান মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইপি ক্যামেরা বসানোকে ভাল উদ্দ্যোগ বলে মনে করেন। তবে কতটা কার্যকরী হবে এ নিয়ে তিনি কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগামী ৫ থেকে ৭ অক্টোবর কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটি হওয়া কথা। আর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব দুর্গাপূজার বিজয় দশমীর ছুটি ৪ অক্টোবর।