আওয়ামী লীগ নেতা সাবুর মৃত্যু: নারীসহ গ্রেফতার ৭

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৯:৫২
 
রাজধানীর আজিমপুরে কাঁচাবাজারের দখল নিয়ে দুই গ্রুপের সংর্ঘষে আহত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন সাবু (৪৫) মারা গেছেন। আজ রবিবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজিমপুর এলাকায় বিক্ষোভ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এক নারীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আজ তাদেরকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে আজিমপুর ছাপড়া মসজিদের পাশে কাঁচাবাজার দখল কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংর্ঘষে সাবু ছুরিকাঘাতে আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাবু-মুত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ এলাকায় নেয়া হলে আজিপুরপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষুব্ধ লোকজন বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তাক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নিহত সাবুর পারিবারিক সূত্র জানায়, শুক্রবার হামলার পর নিহতের স্বজনরা লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করতে যান। এ সময় থানার  ওসি নুরুল মোস্তাকিন ও সেকেন্ড অফিসার সারেয়ার হোসেন আসামিদের রক্ষায় মামলা নিতে টালবাহনা করে প্রায় ৬ ঘন্টায় থানায় বসিয়ে রাখে। একপর্যায় চুরির মামলা করতে বলে। যাতে খুব অনায়াসে আসামিরা আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পায়। শেষটায় এলাকাবাসীর চাপের কারণে পুলিশ  হত্যার চেস্টার অভিযোগে মামলা গ্রহণ করে। মামলার বাদী নিহত সাহাবউদ্দিনের স্ত্রী শাহিন আক্তার। মামলায় আসামি করা হয় সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের অনুসারী ১২ জনের নাম উল্লেখ করে। এ ছাড়া ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ মামলায় সাতজনকে গ্রেফতার করে। এরা হলেন  মফিজ আলম, আলম মিয়া, বাবু,, মাসুম তালুকদার,  আনোয়ার হোসেন,   আলমগীর শেখ ও মোসা. বৃষ্টি আক্তার।
 লালবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল মোস্তাকিন বলেন, যে সব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক না। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে সাতজনকে গ্রেফতার করে। তাদের আজ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ সংলগ্ন কাঁচাবাজারের দখল কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিম ও সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে শুক্রবার  দুই গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষ বাঁধে। এ সময় প্রতিপক্ষ  মফিজ গ্রুপের ছুরিকাঘাতে আহত হন ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা সাবু। আজ সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত সাহাব উদ্দিন সামু ছিলেন হাজি মো. সেলিম গ্রুপের সদস্য। তার বাসা লালবাগের ১২/৩ কাশ্মীরী টোলা লেনে। তার মরদেহ আজ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
নিহতের ভগ্নিপতি আবুল হোসেন বলেন, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ সংলগ্ন কাঁচাবাজারের ফলে রাস্তাঘাটে মানুষ চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। তাই প্রশাসনের সহযোগিতায় সাবু বাজার ভেঙ্গে দেয়। বাজার ভেঙ্গে দেয়ায় প্রতিপক্ষ মফিজ গ্রুপের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণেই  সাবুকে হত্যা করা হয়েছে।