ষোড়শ সংশোধনী বিল, কালপরশুর মধ্যে পাস

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২১:৫৭
 
 
 
 
 
‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল, ২০১৪’ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আজ রবিবার সংসদে এর ওপর প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। বহুল আলোচিত এই বিলটি আজকালের মধ্যে সংসদে পাস হবে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সাত দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ওই দিনই বিলটি সংসদীয় কমিটিকে পাঠানো হয়। ঠিক সাত দিনের মাথায় প্রতিবেদন দেয়া হলেও সংসদীয় কমিটি গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর মাত্র দুটি বৈঠকেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে।
সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, সুপ্রিমকোর্টকে আরও সুরক্ষিত, সম্মানিত, মর্যাদাশীল এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দিতে ও নির্বাহী বিভাগ থেকে এর পৃথকীকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিলটি সংসদে আনা হয়েছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য বিলটি আসার সঙ্গে-সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বার তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছে। ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলামসহ তারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে একাকার হয়ে গেলেন। আমরা হতবাক হয়ে গেলাম। বিরোধী দল (বিএনপি) বলল, আমরা নাকি বিচারকদের জমটুপি পরাচ্ছি। গেল-গেল করে বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল করে বসল। এত কিছু হলে অনিল গড ক্যান হেলপ্ আস। কিন্তু কেউ যদি জ্ঞানপাপী হয়ে তথ্য বিকৃত করে, তাহলে এর চেয়ে খারাপ কিছু হতে পারে না। এটা তো রাজনীতি হতে পারে না।
কমিটি সভাপতি আরও বলেন, বারের আইনজীবীরা সমস্বরে চিত্কার করে বলল, আমরা নাকি বিচারকদের অভিশংসনের জন্য বিলটি এনেছি। কিন্তু বিলের কোথাও অভিশংসন নেই, আছে অপসারণ। কারণ, অভিশংসন হতে পারে কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের ক্ষেত্রে। প্রধানমন্ত্রী সুপ্রিমকোর্টের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চান। তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গের জবাবদিহিতার জায়গা থাকা উচিত। জিয়াউর রহমানের আমলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের দুজন বিচারক রিপোর্ট দিলেই বিচারকের চাকরি চলে যেত। এখন আর তা হবে না। এখন শুধু রিপোর্ট পাঠালেই হবে না, সংসদের দুই তৃতীয়াংশ ভোটে তা পাস হতে হবে। এরপর তা যাবে রাষ্ট্রপতির কাছে। এর ফলে বিচারকদের মর্যাদা আরও বাড়বে উল্লেখ করে তিনি সংসদীয় কমিটির সুপারিশকৃত আকারে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন।
স্থায়ী কমিটির রিপোর্টে বিলটিতে যে প্রস্তাবনা আছে আছে তা বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। উত্থাপিত বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতেও কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। বর্তমান সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে বিচারপতিদের বয়সের বিষয়টি উল্লেখ করা আছে। বয়সের বিষয়টি না রাখার কথা বলে ৯৬ অনুচ্ছেদের এই সংক্রান্ত দফা (১) বিল থেকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এছাড়া বিলের দফা-২ এ প্রস্তাবিত ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা ২, ৩ ও ৪ ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা ২, ৩ ও ৪ এর অবিকল রাখার জন্য কমিটি সুপারিশ করে।
প্রসঙ্গত, বিলের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সামরিক শাসক অসাংবিধানিক পন্থায় ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সামরিক ফরমানের (সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী) দ্বারা সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারককে অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের অভিযোগে অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের পরিবর্তে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে ন্যস্ত করে।
 
পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ বিল পাস:
আজ সংসদে ‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০১৪’ পাস হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠ ভোটে পাস হয়।