পিনাক-৬ ডুবি তদন্ত প্রতিবেদন: ৫ কর্মকর্তার অনিয়ম চিহ্নিত

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২২:০১
 
 মাওয়ার পিনাক-৬ ডুবির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন রবিবার বিকাল সোয়া ৩টায় জমা দেয়া হয়েছে। রিপোর্টে নৌ প্রশাসন পুর্নগঠন, নৌ নিরাপত্তা, আইন সংশোধন ও সার্ভে সিস্টেম পরিবর্তনসহ ২৫টি সুপারিশ করা হয়েছে। রিপোর্টে বিআইডব্লিউটিএ ও সমুদ্র পরিবহন অধিপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তার অনিয়ম ও অবহেলার জন্য চিহ্নিত করেছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এই কমিটি।
নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান ও নৌ সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের হাতে তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন কমিটির প্রধান যুগ্ম সচিব নুর-উর-রহমান।
কমিটির সদস্য সচিব সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন জসিম উদ্দিন ও  সদস্য সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলামও সাথে ছিলেন। ৬২ পৃষ্ঠার মূল রিপোর্টের বাইরে ভিন্ন আরেকটি বই করে ১৭৯ পৃষ্ঠার এই সংক্রান্ত জরুরি দলিলাদি পেশ করা হয়েছে। মন্ত্রী ও সচিব দু‘জনের হাতে পূনাঙ্গ রিপোর্টের দু‘কপি পেশ করা হয়। এই রিপোর্ট এখনও গোপন রাখা হয়েছে। নৌ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জন সংযোগ কর্মকর্তা ম. শাফায়াত হোসেন রাতে জানান, পুরো রিপোর্টটি মন্ত্রী পাঠ করার পর ২/১ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করবেন। এর আগে এই বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। এদিকে প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা মন্ত্রীও প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রিপোর্টে স্থান পাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৩৪ জনের স্বাক্ষ্যে দুর্ঘটনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ ও অবহেলা ফুটে উঠেছে। রিপোর্টটিতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, অদক্ষচালক, নকসায় ত্রুটি এবং লঞ্চটির কাগজপত্রেও নানা রকম অনিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।
ইংল্যান্ড শিপিং অডিনেন্স ১৯৭৬  এর ৪৫ (৩) ধারায় গঠিত সরকারের একমাত্র এই তদন্ত কমিটি লঞ্চ দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করছে।
এর আগে ছুটির দিন শনিবার দিনভর কমিটির সাত সদস্য প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে সন্ধ্যার কিছু আগে স্বাক্ষর
এই তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য প্রথমে কমিটিকে ১০ দিন দেয়া হয়। ১৮ আগস্ট এই সময় শেষ হয়ে যায়। পরে ১৯ আগস্ট থেকে আরও সাত দিন সময় বৃদ্ধি করে সরকার। এই সময় শেষ হয় ২৭ আগস্ট। পরে আরও সাত কার্য দিবস সময় বাড়ে ২৮ আগস্ট থেকে। সর্বশেষ পাঁচ কর্ম দিবসের সময় বাড়ানো হয় ৭ সেপ্টেম্বর। যার শেষ সময় ছিল রবিবার।
তদন্ত কমিটির সদস্য আরেক সদস্য ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, শুধু স্বাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যেই এই তদন্ত সিমাবদ্ধ ছিল না। নথিপত্র, রেজিস্ট্রেশন, সার্ভে সনদ, আবহাওয়া রিপোর্ট, নদীর ঢেউ, লঞ্চের নকসা সংশ্লিষ্ট সবই পর্যবেক্ষণ করেছে। যা রিপোর্টে স্থান পাচ্ছে। কমিটির সদস্য বুয়েটের শিক্ষক প্রকৌশলী গৌতম কুমার সাহা নক্সায় ত্রুটি সনাক্ত করেছেন।
কমিটির এক  সদস্য বলেছেন, স্বজন সদস্যরা তাঁদের স্বজনহারানোর বেদনার কথা বলেছেন। বলেছেন লঞ্চ ডুবে আর কারও যেন প্রাণহানি না ঘটে। আমরাও এই কান্না আর দেখতে চাই না। তা সেরকম রিপোর্টই পেশ করার চেষ্টা করা হয়েছে। 
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট মাওয়ায় পিনাক-৬ ডুবে যায়। এ দুর্ঘটনায় ৪৯ জন যাত্রীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। সরকারি হিসাবে এখনও নিখোঁজ রয়েছে ৬১ যাত্রী। পর দিন ৫ আগস্ট রাতে “অধিক মুনাফার আশায় ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে বেপোরোয়া লঞ্চ চালিয়ে অবহেলাজনিত নরহত্যার” অপরাধে ছয় জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এছাড়া দুর্ঘটনার দিন মেরিন কোর্টে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর প্রথম মামলা করে। পলাতক অপর চার আসামী হচ্ছে- লঞ্চের পুরনো মালিক (কাগজেপত্রে এখনও যিনি মালিক) মনিরুজ্জামান খোকন, সারেং (মাস্টার) গোলাম নবী, সুখানী (গ্রিজার) ছবদর হোসেন মোল্লা ও কাওড়কান্দি ঘাটের ইজারাদার আব্দুল হাই শিকদার। এদিকে দুর্ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও স্বজনহারা পরিবারগুলোর কান্না থামেনি।