যাত্রীবাহী লঞ্চ পিনাক-৬ ডুবির তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে। রোববার বিকালে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান ও নৌ সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন তদন্ত কমিটির প্রধান যুগ্ম সচিব নুর-উর-রহমান।
নৌ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ম. শাফায়াত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, প্রতিবেদনে নৌ প্রশাসন পুনর্গঠন, নৌ নিরাপত্তা, আইন সংশোধন ও সার্ভে সিস্টেম পরিবর্তনসহ ২৫টি সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ ও সমুদ্র পরিবহন অধিপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তার অনিয়ম ও অবহেলার বিষয়ও চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ৬২ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের বাইরে ভিন্ন আরেকটি বই করে ১৭৯ পৃষ্ঠার এই সংক্রান্ত জরুরি দলিলাদি পেশ করা হয়েছে। মন্ত্রী ও সচিব দুজনের হাতে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের দুকপি পেশ করা হয়। এই প্রতিবেদন এখনও গোপন রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
শাফায়াত বলেন, “পুরো রিপোর্টটি মন্ত্রী পাঠ করার পর ২/১ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করবেন। এর আগে এই বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।”
সাত সদস্যবিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটির অন্য ছয় সদস্য ছিলেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গৌতম কুমার সাহা, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ এর প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ, বিআইডব্লিউটিসির প্রতিনিধি আব্দুল রহিম তালুকদার, মুন্সীগঞ্জের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার এবং কমিটির সদস্য সচিব সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন জসিম উদ্দিন।
তদন্ত কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, শুধু সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যেই এই তদন্ত সীমাবদ্ধ ছিল না। নথিপত্র, রেজিস্ট্রেশন, সার্ভে সনদ, আবহাওয়া রিপোর্ট, নদীর ঢেউ, লঞ্চের নকশা সংশ্লিষ্ট সবই পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
