ছাত্রী লাঞ্ছনার অভিযোগ ওঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদ খেকে পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে রেজিস্টারের বরাবর তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ পত্র জমা দেন।
পরীক্ষার খাতায় নম্বর বাড়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ৩য় বর্ষ ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের এক ছাত্রীর উপর শারীরক লাঞ্চিতের অভিযোগ ওঠে তার উপর।
সকাল ১০টায় ওই শিক্ষক কলাভবনের ৬০০৬ নম্বর রুমে ক্লাস নিতে গেলে ভুক্তভোগী ছাত্রীর সহপাঠীরা রুমে তালা লাগিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে ওই ছাত্রীর সহপাঠীরা ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা রুমের সামনে জড়ো হয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানায়। দুপুর একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এএম আমজাদ ও বিভাগের অন্য সিনিয়র শিক্ষকরা এসে তাকে ওই রুম থেকে উদ্ধার করে বিভাগের চেয়ারম্যানের রুমে (৬০০৩ নম্বর) নিয়ে যায়। সর্বশেষ বিকাল সাড়ে পাচঁটা পর্যন্ত ওই রুমে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ ও সহপাঠীদের বরাদ দিয়ে জানা যায়, বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের ৩৫২নং কোর্সের একটি মিডটার্ম পরীক্ষার খাতায় নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষককের বাসায় নিয়ে যায় ভুক্তভোগী ছাত্রীকে। এ সময় ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে শারীরক লাঞ্ছিত করেন। এঘটনার কথোপকথোন টেপ রের্কডে সংরক্ষিত আছে বলেও জানায় ওই ভুক্তভোগী ছাত্রী।
পরে দুপুর একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ আলীসহ বিভাগীয় শিক্ষক অধ্যাপক শাহমান মৈশান, অধ্যাপক আহমেদুল কবির, অধ্যাপক জামিল আহমেদসহ কয়েজন শিক্ষক ঘটনার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাইফুল ইসলামকে ৬০০৩ নম্বর রুমে নিয়ে যায়। এসময় সাইফুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। আমাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করে এসব করা হচ্ছে।
এসময় প্রক্টর জানান, বিষয়টি সর্ম্পকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। এ ধরণের বিষয়গুলো মিমাংসা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট বৈঠকে। এছাড়া বিশ্বদ্যািলয়ের পক্ষ থেকে কোন কিছু করার নেই। এদিকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে গত রাতে সিন্ডিকেটের সভা আহবান করা হয়েছে।
