কাক কাকই থাকে: মওদুদ প্রসঙ্গে রিজভী

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২০:৫৪



বিএনপির দফতরের দায়িত্বে নিয়োজিত যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সম্পর্কে বলেছেন, ‘কাক সাত সমুদ্র তের নদী পেরিয়ে গেলেও সে কাকই থাকে।’
সম্প্রতি প্রকাশিত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ রচিত ‘বাংলাদেশ : ইমারজেন্সি অ্যান্ড দি আফটারম্যাথ : ২০০৭-২০০৮’ বইয়ের কঠোর সমালোচনা করে সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী আহমদ বলেন, ‘এসব মানুষের চরিত্র হচ্ছে, নিজেদের স্বার্থের জন্য রং বদলাবে আর প্রয়োজনে সব ডুবিয়ে দেবে। যারা বিভিন্ন সময়ে ডিগবাজি খায়, ক্ষমতার মধ্যে থেকে নিজেদেরকে সুবিধামতো জায়গায় রাখতে চায়, মানুষ তাদের ভালো চোখে দেখে না। মানুষের কাছে তারা ধরা পড়ে।
তিনি বলেন, ‘মওদুদ আহমদের মতো একজন সিনিয়র নেতা কাদের খুশি করার জন্য এই বই লিখেছেন তা আমার জানা নেই। তিনি অনেক দিন ধরে রাজনীতি করেন, তবে যখনই নিজের স্বার্থ আসে তখনই এ ধরনের কাজ করেন। কথা বলেন।’
মওদুদ আহমেদ তার বইয়ে ১/১১ এর প্রেক্ষাপট নিয়ে লিখেছেন, ‘খালেদা জিয়ার কাছে ওই সময়ে তার নিজের দুই সন্তান তারেক রহমান ও কোকোর ভাগ্যই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো আলোচনায় যেতে রাজি ছিলেন না খালেদা জিয়া। নানা রকম চাপেও অনড় ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সে সময়ে দেশের মানুষের নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন কিংবা একজন রাজনীতিবিদের চেয়েও একজন মা হিসেবে দুই সন্তানের মুক্তির বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন খালেদা জিয়া।
এই প্রসঙ্গে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন যদি নিজের সন্তানের কথা চিন্তা করতেন, তাহলে আরো আগেই তারা মুক্তি পেতেন। কিন্তু বিএনপি প্রধান যখন মুক্তি পেয়েছেন মওদুদ আহমেদ সেই সময়ে মুক্তি পেলেন কিভাবে? সন্তানের জন্য নয়, খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের জন্য কখনো আপোষ করেননি। সেজন্যই তার নামে মামলাও করেছে ওই সময়ের অবৈধ সরকার।
মওদুদ আহমেদ তার বইয়ে বিএনপি সরকারের অপশাসন, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতের সঙ্গে মিত্রতা, বিএনপি সরকারের কিছু মন্ত্রীর সম্পৃক্ততায় জঙ্গিবাদের উত্থান, খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের নামে হওয়া ভবনের ক্ষমতা, প্রভাব ও দুর্নীতি, ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিতর্কটি সমাধানে ব্যর্থতার কারণে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে দায়িত্ব দেওয়ার কারণে বিএনপির কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে আওয়ামী লীগকে ভোটাররা ভোট দিয়েছে বলে বিশ্লেষণে তুলে ধরেন। বইয়ের এই বিশ্লেষণের সমালোচনা করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কোনো সরকারের মন্ত্রী ছিলেন? দুর্নীতি হলে তিনি পদত্যাগ করলেন না কেন?’ মওদুদ আহমেদ নিজের বাড়ি রক্ষা বা ক্ষমতাসীনদের খুশি করতে বইয়ে এসব লিখেছেন কি না সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন রিজভী আহমেদ।