রামগড়ের পাহাড় থেকে ঢাকার তিন ব্যবসায়ীকে উদ্ধার

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৮:৫৪
 
 
খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ের দুর্গম পাহাড় থেকে সোমবার ভোরে ঢাকার তিন ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তক্তক কিনতে এসে এ তিন ব্যবসায়ী রামগড় ফটিকছড়ি সীমান্তবর্তী ঐ দুর্গম এলাকার একটি অপহরণকারী চক্রের খপ্পরে পড়েন। উদ্ধার হওয়া এ তিন ব্যবসায়ী হচ্ছেন শাহা জামান (৪৫), রুস্তম আলী (৪৬) ও মনির হোসেন মিলন (২৬)। এদেও মধ্যে শাহা জামান বৈশাখি টেলিভিশনের বার্তা বিভাগের প্রধান ফরিদ উদ্দিনের আত্মীয় এবং ঢাকায় আই টি টেকনলজি সার্ভিসিং ব্যবসায়ী বলে জানান। 
বিজিবি সূত্র জানায়, রবিবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার তিন ব্যবসায়ীকে রামগড়ের পাহাড়ে অপহরণ করে এনে রাখার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ রামগড়ের শালদাপাড়া ও আশেপাশের দুর্গম এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। পরে অপহূতদের আত্মীয়র কাছে মুক্তিপণ চেয়ে করা মোবাইল ফোনের কল পরীক্ষা করে অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত করে বিজিবি। রবিবার রাত আড়াইটায় রামগড় ফটিকছড়ি সীমান্তবর্তী খাগড়াবিল, নতুনবাজার, চিকনীয়ারখিল প্রভৃতি স্থানে বিজিবি ও পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে। রামগড়স্থ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল খালেদ বিন ইউছুফের নেতৃত্বে গভীর রাতে এ উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিজিবি ছাড়াও চট্টগ্রামের হাটহাজারি সার্কেলের এএসপি আ ফ ম নিজাম উদ্দিন ও ভুজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল কবিরও উপস্থিত ছিলেন। আজ সোমবার ভোর ৪টার দিকে রামগড়ের খাগড়াবিল নামক পাহাড়ি এলাকা থেকে অপহূত তিন ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়।
১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্ণেল খালেদ বিন ইউছুফ জানান, বিজিবির সাঁড়াশি অভিযানে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে অপহরণকারীরা রবিবার গভীর রাতে ঐ তিন ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের জন্য তত্পরতা অব্যাহত আছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ী মনির হোসেন মিলন জানান, রামগড়ের কামাল নামে এ ব্যক্তির সাথে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁরা রবিবার এখানে আসেন। তিনি জানান, কামালের কথামত তারা রামগড়ের পার্শ্ববর্তী গার্ডের দোকান নামক স্থানে এলে জনৈক আরমান নামে এক যুবক এসে তাদেরকে ফটিকছড়ির নতুনবাজার গ্রামে নিয়ে যায়। দুপুরে রামগড় ফটিকছড়ি সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা চিকনীয়াখীল নামক গ্রামে জনৈক আমীর হোসেনের বাসায় নিয়ে তাদের আটকে রাখা হয়। ঐ বাসায় ৪/৫জন যুবক প্রথমে বেদম প্রহার করে তাদের কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে অস্ত্রের মুখে মোবাইল ফোনে কল করে
ঢাকায় তাঁদের আত্মীয় স্বজনের কাছে মুক্তিপণ হিসাবে ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে অপহরণকারীরা।
মনির হোসেন মিলন জানান, বিকাশের মাধ্যমে অপহরণকারীরা তাদের তিনজনের আত্মীয়র কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকা নেয়।
শাহা জামান জানান, অপহরণকারীদের মধ্যে আমীর হোসেন, আরমান ও  বক্কর এ তিনজনের নাম জানতে পেরেছেন। তবে তাদের পূর্ব পরিচিত কামালকে সেখানে দেখা যায়নি। তারা রামগড়ে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে এসেছেন বলে জানান।
এদিকে ফটিকছড়ির বাগানবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুস্তম আলী জানান, ঐ তিন ব্যবসায়ী মূলত তক্তক কিনতে এখানে এসে অপহরণকারীদের ফাঁদে পড়েন। তিনি আরো জানান, অপহরণকারী চক্রটি  তক্তক সরবরাহ করার প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থান থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিকে ঐ দুর্গম এলাকায় এনে আটক করে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করেছে।

ভুজপুর থানার এসআই হেলাল জানান, উদ্ধার হওয়া তিন ব্যবসায়ীকে চিকনীয়ারখীল গ্রামের যে বাসায় আটকে রাখা হয় ঐ গৃহকর্তা আমীর হোসেন (৪০) অপহরণকারী চক্রের প্রধান হোতা। একই কায়দায় সংগঠিত অপর এক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনার মামলায় গত ৭/৮ মাস আগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। কিন্তু সে জামিনে ছাড়া পেয়ে এসে আবার এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে পুলিশ আমীর হোসেনের স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। এ ব্যাপারে ভুজপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল কবির।