গত শনিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার মাদ্রাসা এলাকা থেকে জুনায়েদ মিয়া (১০) নামের মাদ্রাসা ছাত্রকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। মাদ্রাসাছাত্রটিকে পরদিন তারা হত্যা করেছে। হত্যার পর মুক্তিপণের সব টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা হত্যা করেছে বলে হত্যাকারীরা জানিয়েছে জুনায়েদের পরিবারকে। গতকাল সোমবার উপজেলার ধরন্তি হাওর এলাকা থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে।
জুনায়েদ হত্যার প্রতিবাদে গতকাল বিকেল চারটার দিকে তাঁর মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সে উপজেলার টিঘর গ্রামের রফিকুল হকের ছেলে ও উপজেলা শহরের আলীনগর জামিয়া ইসলামিয়া (কওমি) মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পুলিশ ও ওই ছাত্রের পারিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীরা মুঠোফোনে জুনায়েদের বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কিছুক্ষণ পর তারা পাঁচ লাখের পরিবর্তে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ছাড়া ওই সময় তারা টাকা দিতে ব্যর্থ হলে জুনায়েদকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ওই রাতেই এ ব্যাপারে জুনায়েদের চাচা নাজমুল হক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গত রোববার সকালে নাজমুল গ্রামের একটি দোকান থেকে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের ২০ হাজার টাকা দেন এবং বাকি ৮০ হাজার টাকা সন্ধ্যার মধ্যে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় অপহরণকারীরা জুনায়েদকে উপজেলার ধরন্তি হাওর এলাকার সোনালি ইটভাটার সামনে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
গতকাল অপহরণকারীরা মুঠোফোনে নাজমুল হককে ফোন করে বলে, কথা ও কাজে মিল না থাকায় জুনায়েদকে রোববার রাতে হত্যা করা হয়েছে। তার লাশ সোনালি ইটভাটার আশপাশে আছে। খবর পেয়ে সরাইল থানার পুলিশ বেলা দুইটার দিকে সোনালি ইটভাটার ২০০ মিটার দূর থেকে জুনায়েদের লাশ উদ্ধার করে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী আরশাদ বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আশা করি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।’
