বুধবার সাঈদীর আপিলের রায়: পিরোজপুরে ৩ স্তরের নিরাপত্তা

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২০:২৩
 
 
মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের রায় বুধবার ঘোষিত হওয়ার খবরে পিরোজপুরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তার নিজ উপজেলা জিয়ানগর ও জেলা সদর পিরোজপুরে পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সারা জেলায়ই আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আয়ত্ত্বে রাখতে পুলিশ পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ প্রদানের পূর্বাপর সময় পিরোজপুরসহ সারা দেশে যে মারাত্মক সহিংসতা ঘটে ছিল সে পরিস্থিতি মাথায় রেখে জেলায় তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ভুত যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষ আইন- মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইন-শৃংখলা বিষয়ক জেলা কোর কমিটির সভা পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠিত হয়। সভায় যে কোন অবস্থা প্রতিহত করতে  কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয় আলোচনা হয় বলে অংশগ্রহণকারীদের সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি, র্যাব, এপিবিএনসহ পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের বিষয় সিদ্ধান্ত হয়।
পিরোজপুরের নবাগত পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন জানান, তারা ইতিমধ্যে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হবে। তিনি জানান, সাঈদীর নিজ থানা ইন্দুরকানীতে আগে থেকেই এপিবিএন’র পুলিশ সদস্যরা কর্তব্য পালন করছে। রাতের মধ্যেই বিশেষ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জেলা সদরসহ  ইন্দুরকানীতে অবস্থান নেবে। জানা গেছে, সাঈদীর নিজ এলাকা জিয়ানগরকে (ইন্দুরকানী) বিশেষ নজরদারীতে রাখা হয়েছে। এ উপজেলায় সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় পিতা-পুত্রের অনুসারীসহ জামায়াত-বিএনপি’র নেতা-কর্মী-সমর্থকদের চলাফেরার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখছেন গোয়েন্দারা।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে এই এলাকায় দুই আওয়ামী লীগ কর্মী ও এক বিএনপি কর্মী রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হন। পাশাপাশি হরতাল-অবরোধে যে সহিংসতা ঘটেছিল তাতে উভয় পক্ষের কয়েক শত নেতা-কর্মী-সমর্থক বিভিন্ন মামলায় আসামী থাকায় এ এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা রয়েছে। জিয়ানগর থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, সেখানে পুলিশের এপিবিএন সদস্যরা বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে টহল দিচ্ছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাস্তায় সাঈদীর পক্ষে-বিপক্ষে কোন মিটিং, মিছিল দেখা যায় নি। সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার প্রধান সাক্ষী পাড়েরহাটের হোগলাবুনিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান ইত্তেফাক কে বলেন, ট্রাইব্যুনালে সাঈদীকে যে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে আপিল ডিভিশনে সেই রায়ই বহাল থাকবে বলে তিনি মনে করেন। সাঈদীর ছেলে জিয়ানগর উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী ইত্তেফাককে বলেন, তার পিতা নির্দোষ এবং আপিল ডিভিশনের রায় তিনি ন্যায় বিচার পাবেন।

উল্লেখ্য, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পিরোজপুর-১ আসন (জিয়ানগর-সদর-নাজিরপুর) থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন।