রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল: ১৪ দল

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৭:৫৫
 
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলায় আপিল বিভাগের রায় প্রত্যাশিত না হলেও উচ্চ আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তা মেনে নিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।
বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, উচ্চ আদালতের রায়কে মেনে নেয়া ছাড়া বিকল্প নেই। কারণ ১৪ দল উচ্চ আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই এ রায়ের প্রতিও আমরা শ্রদ্ধাশীল। তবে জনগণ ও ১৪ দলের প্রত্যাশা ছিল, আপিল বিভাগের রায়ে একাত্তরের ঘাতক দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকবে। 
আপিল বিভাগের রায় প্রত্যাখ্যান করে জামায়াতের ডাকা দুই দিনের হরতাল প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চিহ্নিত ঘৃন্য যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের ডাকা হরতালে জনগণের সমর্থন নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের মোকাবেলা করবে। আর আমরা তাদের মোকাবেলা করবো রাজনৈতিকভাবে। আইনও তার গতিতে চলবে।
জামায়াতের সঙ্গে কোনো আঁঁতাত হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নাসিম বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। আপনারা (সাংবাদিকরা) এটা প্রধান বিচারপতিকে জিজ্ঞাসা করেন। তাছাড়া স্বাধীন বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করা শোভন নয়। তিনি বলেন, যারা আঁঁতাতের অভিযোগ তুলছে হয় তারা জ্ঞানপাপী, নয়তো না বুঝে এসব অহেতুক ও অযৌক্তিক কথা বলছে। একাত্তরের ঘাতকদের সাথে আঁঁতাতের প্রশ্নই আসে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অনেক বাধা সত্ত্বেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি দিন পরে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর হচ্ছে। কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর না করার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার তা বাস্তবায়ন করেছে।  
এদিকে ১৪ দলের পক্ষ থেকে পূজা ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশবাসীকে অগ্রিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘শান্তির বৃক্ষ’ উপহার পাওয়ায় এবং তার কন্যা সায়মা হোসেন পুতুল অটিজমের উপর আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়ায় ১৪ দল তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু সাঈদ খান, ভাইস চেয়ারম্যান আজিজ বাঙ্গাল, দপ্তর সম্পাদক এম সালাউদ্দিন আহমেদ, ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা প্রমুখ।