সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাবাস অসেন্তাষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষসহ সকল পক্ষ। রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পরিবর্তন করায় মর্মাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আর সংক্ষুদ্ধ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পরিবার জানিয়েছে— ন্যায় বিচার না পাওয়ায় এই রায়ের রিভিউ আবেদন করবেন তারা।
গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় ঘোষণা করা হয়। সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এই দুই পক্ষের আপিল আংশিক মঞ্জুর করা হয়েছে। যাতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে সাইদীকে। রায় ঘোষণার পর নিজ বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেন, সাঈদীর আপিলের রায়ে সাজা কমায় আমি মর্মাহত। তিনি বলেন, আমি একজন ব্যক্তি, সরকারের সদস্য ও নাগরিক হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতের যে কোনো আদেশ ও রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে মানবতাবিরোধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি আমরা আশা করি, সেটা না হওয়ায় আমি মর্মাহত।
তিনি আরো বলেন, আমি শুনেছি তিনি পিস কমিটির মেম্বার ছিলেন এবং এ বিষয়ে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। স্বেচ্ছায় যারা পিস কমিটির মেম্বার হয়েছিলেন তারাতো সচেতনভাবেই স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।
এ মামলার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কোনো দুর্বলতা ছিল কি না, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি না দেখে কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। তবে প্রসিকিউশন টিমের বর্তমান অবস্থায় পরিবর্তন আসা দরকার। দ্রুত এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আপিল বিভাগের এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে কি না, জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার আগ পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। কারণ আব্দুল কাদের মোল্লার রায় রিভিউ করার জন্য আসামিপক্ষ আবেদন করেছিল। তার পুরো রায় এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আঁঁতাত করে সরকার এই রায় দিয়েছে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভকারীদের এমন দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নই ওঠে না। মানবতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী, জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। অন্য দিকে, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, সর্বোচ্চ আদালত সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে রায় দেয়। রায় পছন্দ হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। কিন্তু সব রায়ই আমাদের গ্রহণ করতে হয়, গ্রহণ করতে হবে।
অন্যদিকে, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। আমরা আশা করেছিলাম, তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন। কিন্তু আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কথিত অভিযোগগুলোতে যে এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেই এলাকা থেকে আমি বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। এর মাধ্যমে ঐ এলাকার মানুষ প্রমাণ করেছে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নির্দোষ। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর রিভিউ আবেদন করা হবে।
রায়ে অসন্তোষের কথা প্রকাশ পেয়েছে দুই পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যেও। এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেছেন, ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের যে রায় দিয়েছিল তা বহাল থাকবে এটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেটা থাকেনি। এ কারণে আমার খুব খারাপ লাগছে। আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এ রায়ে আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হবে।
