যুক্তরাজ্য ত্যাগ করে স্কটল্যান্ড একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত কি-না- এ প্রশ্নে বহুল আলোচিত গণভোট আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্কটিশরা স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিলে আজীবনের জন্য বদলে যাবে যুক্তরাজ্যের মানচিত্র। কাজেই এ গণভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে যুক্তরাজ্যের অখ-তা। এমন একটি গুরুত্ব¡পূর্ণ গণভোটকে সামনে রেখে গত কয়েক সপ্তাহ যাবত নিজ নিজ যুক্তি তুলে ধরে তুমুল প্রচারণায় লিপ্ত ছিল স্বাধীনতাকামী স্কটিশ এবং যুক্তরাজ্যের অখ-তায় বিশ্বাসী পক্ষ। শুধুমাত্র স্কটল্যান্ডের নাগরিকরা এ গণভোটে রায় দেবে।
ব্রিটেনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ভোটার হওয়ার বয়স ১৮ বছর। কিন্তু স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ১৬ বছর বয়সীরাও ভোট দিতে পারবে। ২০১২ সালের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে স্কটল্যান্ডে ১৬ উর্ধ্ব নাগরিকের সংখ্যা ৪৪ লাখ ১০ হাজার ২৮৮ জন। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী গণভোটের জন্য নিবন্ধন করেছে সর্বমোট ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৩২৩ জন। যা স্কটল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৭ শতাংশ। স্কটল্যান্ডের ইতিহাসে এটা সর্বোচ্চ সংখ্যাক ভোটার হওয়ার রেকর্ড। অন্যদিকে ভোট প্রদানের হারও ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যা হবে দেশটিতে ভোটার উপস্থিতির ক্ষেত্রে আরো একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। স্কটল্যান্ডের ৩২টি স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ এ গণভোট পরিচালনা করবে। বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
দেশব্যাপী মোট ২ হাজার ৬শ ৮টি এলাকায় সর্বমোট ৫ হাজার ৫শ ৭৯টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব ভোট কেন্দ্রে আজ স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্কুল এবং বিভিন্ন হলকে ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভিড় সামলাতে এবং ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ করতে নেয়া হয়েছে বেশকিছু পদক্ষেপ । যেমন বেশির ভাগ এলাকার ভোট কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ ৮শ জন ভোটার ভোট দিতে পারবেন-এমনটি ঠিক করে দেয়া হয়েছে।
স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর গ্লাসগোকে ২০০টি এলাকায় ভাগ করে মোট ৪৮৩টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ শহরে ভোটার হওয়ার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদের ৯৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। এখানে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি ঘটবে বলে আশা করছে স্থানীয় কাউন্সিলগুলো। এ শহরের ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন পরিচালনায় সর্বমোট ১ হাজার ১শ ৮৮ জন নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে পঞ্চম এবং ষষ্ঠ শ্রেণী পড়–য়া ১৮৫জন শিক্ষার্থীও রয়েছে।
গণভোট পরিচালনার সামগ্রিক সমন্বয়ের কাজটি সম্পাদনা করা হবে সেলটিক পার্ক সংলগ্ন এমিরাটস এরিনা থেকে। ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর ১১৩টি ভ্যানে করে ব্যালট বাক্সগুলো সারা দেশ থেকে এই এরিনাতে আনা হবে। এখানে প্রায় ৭শ’ ব্যক্তি ভোটগুলো গণনা করবেন।
এ গণভোটে সর্বমোট ৭ লাখ ৮৯ হাজার ২৪ জন পোস্টাল ভোটের (ডাক যোগে ভোট প্রদান) জন্য আবেদন করেছেন। কাউন্সিলগুলো সমসংখ্যাক পোস্টাল ব্যালট তিন সপ্তাহ আগে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের ঠিকানায় পাঠায়। আজ এসব পোস্টাল ভোট জমা দেয়ার শেষ দিন। পোস্টাল ভোটের ক্ষেত্রেও এ গণভোট রেকর্ড সৃস্টি করেছে।
ভোট গণনার সময় পোস্টাল ভোটগুলো আগে গণনা করা হবে। তার আগে ভোট জালিয়াতি রোধে পোস্টাল ভোটে ভোটদানকারীর সাক্ষর এবং জন্মতারিখ ভোটার নিবন্ধন তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখা হবে। এ কাজে এবারই প্রথম বিশেষ সফটওয়্যার এবং মেশিনের ব্যবহার করবে কর্তৃপক্ষ। মেশিন যদি কোনো পোস্টাল ভোট জাল বা বাতিল বলে ধরে নেয় তবে নির্বাচনী কর্মকর্তারা সেসব ব্যালট পুনরায় যাচাই বাছাই করবেন। একটি সূত্রের বরাদ দিয়ে ইংরেজি দৈনিক গার্ডিয়ান জানিয়েছে, রাত ১০টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর রাতব্যাপী চলবে ভোট গণনা। আগামীকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা নাগাদ গণভোটের অনানুষ্ঠানিক ফলাফল জানা যাবে।
