জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসাঈস সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেয়ার প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবিতে ডাকা প্রথম দিনের হরতালে সাড়া মেলেনি। রাজধানীতে হরতালের সমর্থনে তাদের কোনো তত্পরতাও দেখা যায়নি। রাজধানীবাসীর জীবনযাত্রা ছিল প্রায় স্বাভাবিক। গণপরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করেছে। অধিকাংশ দোকানপাট ছিল খোলা, ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। হরতালে নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীতে পুলিশের ছিল সতর্ক অবস্থান। তবে লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও রাজধানী থেকে দূর পাল্লার বাস চলচল ছিল অনেক কম।
বৃহস্পতিবার সকালে দিকে যান চলাচল কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। সকাল দশটার পর থেকে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন পয়েন্ট গুলোতে অন্যান্য দিনের মতোই সৃষ্টি হয় যানজটের। একই অবস্থা ছিল দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। সকাল ১০টার পর থেকে অন্যান্য দিনের মতই চলে বেচা কেন।
নগরীর বাড্ডা, তেজগাঁও, মালিবাগ, কাকরাইল, বিজয়নগর, শান্তিনগর, মতিঝিল, আরামবাগ, গুলিস্তান, পল্টন ডেমরা, যাত্রাবাড়ি, জুরাইন, শ্যাপপুর, মীর হাজিরবাগ, গোপীবাগ, গুলশান, বনানী, উত্তরা, গাবতলী, তেজগাঁও, পুরনো ঢাকার কোন এলাকায় হরতালের পক্ষে দেখা যায়নি কোন পিকেটিং। জামায়াতের বেশ প্রভাব বিস্তারের এলাকা হিসেবে চিহ্নিত মগবাজার এলাকাও ছিল স্বাভাবিক। অন্যান্য সময় হরতালে এসব এলাকায় মিছিল বের করার নজির রয়েছে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের। তবে সকাল পৌনে সাতটার দিকে মিরপুর শিয়ালবাড়ী এলাকায় শিবির কর্মীরা জড়ো হয়ে গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা করে। তবে পুলিশের ধাওয়ার মুখে অন্যরা পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে।
নাশকতার আশঙ্কায় সকালের দিকে দূরপাল্লার বাস চলাচল কম থাকলেও দুপুরের দিকে হরতাল উপেক্ষা করে রাজধানীর মহাখালি, গাবতলী ও সায়েদাবাস টার্মিনাল থেকে দূর পাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়।
আপিল বিভাগ থেকে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আমৃত্যু দন্ডাদেশ দেয়ার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী ৪৮ ঘণ্টার ডাকে। প্রথম দিন গতকাল সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফায় রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত।
