সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামি ২ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট অমিত কুমার দে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।
বৃহস্পতিবার মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন তদন্ত কর্মকর্তা র্যাবের সহকারী পরিচালক সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ারেছ আলী তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।
ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার পুর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিহতদের দাফনকৃত লাশ উত্তোলনের পর রসুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ভিসেরা সংরক্ষণ ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গেরও রাসায়নিক পরীক্ষাপূর্বক সাংবাদিক দম্পতিকে মৃত্যুর আগে অবচেতন করার জন্য কোন প্রকার দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছিল কিনা এ সংক্রান্তে তাদের মলমূত্র, ফুসফুস, লিভার ও পাকস্থলীতে চেতানানাশক পদার্থের অস্তিত্ব ছিল কিনা ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে সুস্পষ্ট মতামতের জন্য আবেদন করেন। একই বছরের ২৯ মে সাংবাদিক দম্পতি ভিসেরা, রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যায়। ঐ রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ভিসেরায় কোন বিষাক্ত কিংবা নেশাজাতীয় পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত সংরক্ষিত আলামতের মধ্যে ছুরির বাট, বটিতে ফিংগার প্রিন্ট পাওয়া যায় কিনা তা পাওয়ার জন্য আলামত পরীক্ষঅর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফরেনসিক ল্যাবে প্রেরণ করেন।
এছাড়া, সাগর রনির পরনের কাপড় ও নিহত সাগরের হাত ও পা বাধার কাপড়, ঘটনাস্থলে পাওয়া চুল, ভাঙ্গা গ্রীলের পাশে প্রাপ্ত মোজা, দরাজার লক, চেইন, ছিটকানী রাসায়নিক ও ডিএনএ পরীক্ষঅর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাবে প্রেরণ করেন। এছাড়া ধৃত ৮ আসামি ও নিহত ভিকটিমদের নিকট আত্মীয়সহ সন্ধিগ্ধ ২১ জনের ‘ডিইউসিসিএলএসডব্লিউএডি’ সংগ্রহপূর্বক ডিএনএ পরীকাষঅর জন্য যুক্তরাষ্টের ল্যাবে প্রেরণ করেন।
চলতি বছরের গত ১২ মার্চ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করি। মামলার ডকেট পর্যালোচনা ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তদন্তকালে ঘটনাস্থলেল আশেপাশের লোকজন, নিহতদের আত্মীয়-স্বজন, অফিসের সহকর্মী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিসহ সর্বমোট ১৫০ জন সাক্ষির জবানবন্দি গ্রহণপূর্বক পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত অব্যাহত থাকাবস্থায় তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগার থেকে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট সমপ্রতি পাওয়া গেছে। ডিএনএ রিপোর্ট, অপরাধ চিত্রের প্রতিবেদন বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এটি একটি আলোচিত, স্পর্শকাতর ও চঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। ফলে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ও বিশেষ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
র্যাবের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত মামলার তদারকি ও দিক নির্দেশনা দেন। মামলাটির সকল প্রকার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে ফলাফলের উপর ভিত্তি করে যথাসম্ভব দ্রততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করা হবে।’’
প্রসঙ্গত মামলায় রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট ৮ জন আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন। অপর ৭ জন হলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি যে বাড়ীতে থাকতেন ওই বাড়ীর দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল, বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন ও আবু সাঈদ।
আসামিদের প্রত্যেককে একাধিবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও তাদের মধ্যে কেইউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। সমপ্রতি আসামি তানভীর রহমানকে কেন জামিন দেওয়া হবে না এ সম্পর্কে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের বছর ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নিজ ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার পরেরদিন নিহত রুনির ছোট ভাই নওশের আলম রোমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় ধারায় এ হত্যা মামলা করেন।
