ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে (ঢামেক) ছাত্রলীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জের ধরে কলেজের ফজলে রাব্বী হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঈদ ও পূজার ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হতে পারে কলেজের সকল ক্লাসও। বৃহস্পতিবার বিকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, বিকাল পাঁচটার দিকে কলেজের ফজলে রাব্বী হলে ছাত্রলীগের হল শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১০জন আহত হন।
এদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- শেখ মো. আল আমিন, ইফতেখার লিমন, কৌশিক রায়, তাসনিম আহমেদ, রবিন, তারেক, সবুজ। আহতরা কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা গ্রহণ করেছেন।
জানা যায়, গত বুধবার রাতে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী ছাত্রলীগের হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ফাহাদের গ্রুপে যোগ দেয়। এতে হল শাখার সভাপতি হুমায়ুন কবির সুমনের গ্রুপ ক্ষুব্ধ হয়। রাতেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় দুপুরে হলে ফাহাদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয় সুমন গ্রুপের কর্মীরা। দুইপক্ষ হলে শক্তির মহড়া দেয়। এরপর বিকাল পাঁচটার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের কারণে হলে ও কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কলেজ ও হল প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে হল ত্যাগ করতে সকল ছাত্রদের নির্দেশ দেয় হল কর্তৃপক্ষ। রাত আটটায়ও শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে দেখা যায়। হঠাত্ করে কর্তৃপক্ষের এমন নির্দেশনায় বিপাকে পড়েন ছাত্ররা।
সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের হল শাখার সভাপতি সুমন ও সাধারণ সম্পাদক ফাহাদের মোবাইলে কল করা হলে উভয়ের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান বলেন, ছাত্রদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে হলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর রেশ কলেজেও ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই সতর্কতাবশত ফজলে রাব্বী হল ত্যাগ করতে ছাত্রদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক বসবে। এতে হল কবে খোলা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
তিনি জানান, কলেজে ঈদ ও পূজার ছুটি ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এরমধ্যে ছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত না হলে ছুটি শুরুর আগেই কলেজ বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। অস্থিতিশীল ও বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনা তদন্তে কমিটিও গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
