সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য ৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে আদালত। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত-২ এর বিচারক আফরোজা শিউলি বৃহস্পতিবার এ দিন ধার্য করেন। আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত এ দিন ধার্য করে।
তদন্ত কর্মকর্তা ওই প্রতিবেদনে বলেন, এ মামলায় জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে আসামি উত্তম কুমার রায়, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা, মুনিগঞ্জ (সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সাভার পৌরসভা, সাভার, ঢাকা), আসামি কবির উদ্দিন সরকার, সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাভার ঢাকা, এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা থেকে ইমারত পরিদর্শক মো. আওলাদ হোসেনদের বিরুদ্ধে মঞ্জুরি আদেশ সম্পর্কিত পত্রপ্রাপ্তি সাপেক্ষে বিধিসম্মত সকল প্রক্রিয়া অনুসরণূর্বক দায়ী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রযোজ্য ধারা মতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আসামি উত্তম কুমার রায়, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা, মুনিগঞ্জ (সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সাভার পৌরসভা, সাভার, ঢাকা) এর বিরুদ্ধে মঞ্জুরিপত্র পাওয়া যায়নি মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের অতিরিক্ত পিপি আনোয়ারূর কবীর বাবুল জানান, তদন্ত কমকর্তার ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ওই কর্মচারীদের বিষয়ে মঞ্জুরিপত্র তদন্ত কর্মকর্তাকে সরবরাহ করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় গত বছরের ২৫ এপ্রিল সাভার থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। একটি হলো অবহেলাজনিত মৃত্যু চিহ্নিত করে পুলিশের হত্যা মামলা। অপরটি হলো ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করায় রাজউকের ইমারত আইনে দায়ের করা মামলা। গত বছর ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সাভার থানার এসআই ওয়ালী আশরাফ ১১৩৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভবন মালিক মো. সোহেল রানাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে একটি অবহেলাজনিত হত্যা মামলা দায়ের করেন।
একই দিনে ইমারত নির্মাণ আইন না মেনে ভবন নির্মাণ করায় রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন ১৩ জনকে আসামি করে সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা। এ সময় ভবনের নিচে চাপা পড়েন সাড়ে ৫ হাজার পোশাকশ্রমিক। এ ঘটনায় ১১৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়। আহত ও কিলাঙ্গ হন প্রায় দুই হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল ভয়াবহতম এ ভবন ধসের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। সাভার থানার এসআই ওয়ালী আশরাফ রেকর্ড সংখ্যক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভবন মালিক মো. সোহেল রানাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে একটি অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে আবদুুল খালেক ওরফে খালেক কুলু, মোহাম্মদ আলী খান, রেফাত উল্লাহ, আবুল হাসান, অনিল কুমার দাস, শাহ আলম মিঠু, এমায়েত হোসেন, রাকিবুল ইসলাম ও আলম মিয়া জামিনে রয়েছেন। এ ছাড়া বজলুল সামাদ আদনান, মাহমুদুর রহমান, সোহেল রানা, আমিনুল ইসলাম, আনিছুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক খান, আলমগীর, রাসেল মধু ও সরোয়ার কারাগারে রয়েছেন।
একই দিনে ইমারত নির্মাণ আইন না মেনে ভবন নির্মাণ করায় রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন ১৩ জনকে আসামি করে সাভার থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলাটি হয় ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ এর ১২ ধারায়। এ মামলার আসামিদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী খান, এনায়েত হোসেন, আবদুল খালেক, রেফাত উল্লাহ, বজলুল সামাদ আদনান, মাহমুদুর রহমান জামিনে রয়েছেন।
এ ছাড়া সোহেল রানা, রফিকুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, আনিছুর রহমান, রফিকুল ইসলাম ও সরোয়ার কামাল কারাগারে আটক রয়েছেন।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা। এ সময় ভবনের নিচে চাপা পড়েন সাড়ে ৫ হাজার পোশাকশ্রমিক। এ ঘটনায় ১১৩৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। আহত ও বিকলাঙ্গ হন প্রায় দুই হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
