র‌্যাবকে ‘দায়মুক্তি’ আর না: ইইউ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০০:৪৩

র‌্যাব একের পর এক মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটাচ্ছে অথচ তাদের জন্য দায়মুক্তির সুযোগ রয়েছে! আর এ সুযোগটিই র‌্যাবকে মানবাধিকার লংঘনে উৎসাহিত করছে দাবি করে তা বন্ধ করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো একের পর এক সমালোচনা করেছে। কিন্তু সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ যেন নেই র‌্যাবের!তাই র‌্যাবের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার এক প্রস্তাব পাস হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পার্লামেন্টে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে সাত খুনে র‌্যাবের তিন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর এই বাহিনী বিলুপ্তি দাবি তোলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূতভাবে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।
তাদের পাস হওয়া প্রস্তাবে র‌্যাব ও পুলিশকে আইনের মধ্য থেকে কাজ করাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনাটি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বলেছে, “র‌্যাবের বেআইনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই বাহিনীকে দেওয়া দায়মুক্তি এখনই বন্ধ করার জোর দাবি জানানো হচ্ছে।”
মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের নমনীয়তা না দেখানোর নীতির প্রশংসা করলেও তার বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছে ইউরোপের দেশগুলো। বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুমের যে অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে উঠেছে, তাতে উদ্বেগ জানিয়ে যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই সেই ব্যক্তিদের অবিলম্বে ছেড়ে দিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে তারা।  কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তাদের আদালতে সোপর্দ করতেও বলা হয়েছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতেও সরকারকে বলেছে ইইউ।সম্প্রতি প্রণীত জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার বিষয়টি তুলে ধরে ভিন্নমত দমনের কোনো চেষ্টা না চালাতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

রানা প্লাজা ধস এবং তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের পর পোশাক শিল্পে শ্রমপরিবেশ নিরাপদ করতে সরকারের নেওয়া বিভ্ন্নি পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মানদণ্ড যেন পুরোপুরি অর্জন করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।