রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে আবাসিক হল ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা। ফলে রুয়েট ক্যাম্পাস ছাত্রশূন্য হয়ে পড়েছে। শুক্রবার ভোর থেকে সকাল ১০টার মধ্যে সকল শিক্ষার্থী আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। বৃহস্পতিবার বিকালে শিবির, ছাত্রলীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের কারণে ওইদিন রাতে প্রশাসনের জরুরি সভায় আগামীকাল ২০ সেপ্টেম্বর (শনিবার) থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টিকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে আবাসিক হল ত্যাগের নিদের্শ দেয়া হয়।
শুক্রবার সকালে রুয়েটের বিভিন্ন ফটক ও ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনের নির্দেশে সুর্যদয়ের আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা ল্যাগেজ ও বইয়ের ব্যাগ নিয়ে রুয়েটের বিভিন্ন আবাসিক হল এবং সংলগ্ন বিভিন্ন ছাত্রবাস ছেড়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে শুরু করে। এছাড়াও দূরের শিক্ষার্থীদের রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ও বাস টার্মিনালে যেতে দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থীদের অভিভাবককেও ক্যাম্পাসে এসে তাদের সন্তানদের নিয়ে যেতে দেখা যায়।
রুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নূর ইসলাম, মিশুক ও নাজমুল জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হঠাৎ হল বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে আবাসিক শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে যারা দূরের শিক্ষার্থী তারা বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
এদিকে, ক্যাম্পাসের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ও শহীদ লে. সেলিম হলের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে রুয়েটের অডিটরিয়ামে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে শিবির বাধা দেয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে রুয়েট শিবিরের সেক্রেটারি আহমেদ ইয়াসিরসহ দুই নেতাকে পুলিশ আটক করলে শিবির কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা তাদের নিয়ন্ত্রিত শহীদ লে. সেলিম হলে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হলে পুলিশ ওই হলটি ঘিরে রাখে এবং তল্লাশি চালিয়ে জিহাদি বই ও প্রকাশনাসহ শিবিরের আরো ৯ কর্মীকে আটক করে। এ সময় রুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে প্রায় বিনাবাধায় লে. সেলিম হলটি দখল করে নেয়। পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বহিরাগতসহ অর্ধশতাধিক সশস্ত্র শিবিরকর্মীরা দুপুরে বেদখল হওয়া রুয়েটের লে. সেলিম হলটি পুনরুদ্ধার করতে যায়। কিন্তু ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা মাত্র সশস্ত্র শিবির কর্মীদের পেছন থেকে ধাওয়া করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এক পর্যায়ে রুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ফলে চলমান সংঘর্ষ ত্রিমুখী রূপ নেয়। পরে সংঘর্ষ পার্শ্ববর্তী অক্ট্রয় মোড় ও কাজলায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম বেগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনের জরুরি সভায় জানমালের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
